ঢাকা বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩
Daily Global News

রূপপুরে পরমাণু যুগের সূচনা: চুল্লিতে জ্বলবে ইউরেনিয়াম, অপেক্ষার অবসান

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: এপ্রিল ২৮, ২০২৬, ১২:৪২ পিএম

রূপপুরে পরমাণু যুগের সূচনা: চুল্লিতে জ্বলবে ইউরেনিয়াম, অপেক্ষার অবসান

পাবনার রূপপুরে প্রমত্তা পদ্মার পাড়ে আজ রচিত হচ্ছে নতুন এক ইতিহাস। মঙ্গলবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভার্চুয়ালি দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে ‘ফুয়েল লোডিং’ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করবেন। এর মাধ্যমেই পরমাণু থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত ধাপে পা রাখল বাংলাদেশ।

পারমাণবিক জ্বালানি বা ইউরেনিয়াম রডগুলো চুল্লির ভেতরে স্থাপন করার প্রক্রিয়াই হলো ফুয়েল লোডিং। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও কারিগরি দক্ষতা-নির্ভর একটি প্রক্রিয়া, যা সম্পন্ন হতে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ দিন সময় লাগে। রাশিয়ার তৈরি অত্যাধুনিক এই ফুয়েল অ্যাসেম্বলিগুলোই হবে দেশের ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের মূল চালিকাশক্তি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মো. শফিকুল ইসলাম জানান, এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ‘নিউক্লিয়ার ফিশন’ প্রক্রিয়ায় কাজ করবে।

চেইন রিঅ্যাকশন: চুল্লিতে ইউরেনিয়ামের নিউক্লিয়াস বিভাজনের মাধ্যমে প্রচণ্ড তাপ উৎপন্ন হবে। বাষ্পের শক্তি: সেই তাপে পানি ফুটে উচ্চচাপে বাষ্পে পরিণত হবে। টারবাইন: এই বাষ্পের তীব্র চাপে টারবাইন ঘুরবে এবং জেনারেটর থেকে বিদ্যুৎ তৈরি হবে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম আশা প্রকাশ করেছেন যে, চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসেই এখান থেকে উৎপাদিত প্রথম ১০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। তবে বাণিজ্যিক উৎপাদনের আগে আরও প্রায় ৬ মাস থেকে এক বছর সময় লাগতে পারে ‘পাইলট অপারেশন’ বা পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের জন্য। এ সময়ে ইমার্জেন্সি সাপোর্ট এবং টারবাইন জেনারেটরের সক্ষমতা বারবার পরীক্ষা করা হবে।

অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম জানান, পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক অপারেশনের পর রিঅ্যাক্টরটি ১৮ মাস টানা চলবে। এরপর জ্বালানি প্রতিস্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বিরতি দিয়ে আবার নতুন সাইকেল শুরু হবে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার কড়া নজরদারিতে এই স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।

ডিজিএন/এনএস

banner
Link copied!