যশোরের শার্শার উলাশী-যদুনাথপুর খালের পাড়ে আজ সোমবার ছিল জনসমুদ্র। প্রায় ৫০ বছর আগে এই খাল খনন করে বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। আজ সেই খালের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করতে এসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কেবল খাল নয়, খনন করেছেন মানুষের হৃদয়ের গভীরের আবেগ।
গ্রামের মাটির চুলায় কাঠের ধোঁয়ায় জলভরা চোখে রান্না করা মা-বোনদের কষ্ট স্পর্শ করেছে প্রধানমন্ত্রীকে। তিনি আবেগতাড়িত কণ্ঠে বলেন, "রান্নার কাজে মা-বোনেদের খুব কষ্ট হয়, আমি জানি। এই কষ্ট গ্রামের মা-বোনেদের যেমন, শহরের মা-বোনেদেরও তেমন।" তিনি ঘোষণা করেন, নারী প্রধান পরিবারসহ প্রতিটি অভাবী মায়ের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে ‘এলপিজি কার্ড’। এর ফলে কাঠের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং রান্নার জ্বালানি হবে সহজলভ্য। আগামী ৫ বছরের মধ্যে দেশের সকল মায়ের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকারও করেন তিনি।
নারীদের স্বাবলম্বী করতে শিক্ষার বিকল্প নেই এ কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "বেগম খালেদা জিয়া নারীদের জন্য ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত পড়াশোনা ফ্রি করেছিলেন। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, নারীদের উচ্চতর ডিগ্রি পর্যন্ত পড়াশোনা পুরোপুরি অবৈতনিক (ফ্রি) করে দেব।" এর পাশাপাশি মেধাবী নারী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ উপবৃত্তির ব্যবস্থাও রাখা হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ১৯৭৬ সালের ১ নভেম্বর তার বাবা জিয়াউর রহমান এই খালটি খনন করেছিলেন। বাবার সেই অসমাপ্ত কাজকে পূর্ণতা দিতেই এই পুনঃখনন প্রকল্প।
প্রায় ৭২ হাজার মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে। ২০ হাজার কৃষক সরাসরি পানি পাবে এবং প্রায় ১৪০০ টন বাড়তি খাদ্যশস্য উৎপাদিত হবে। খালের পাড়ে রোপণ করা হবে ৩ হাজার বৃক্ষ।
তিনি আরও ঘোষণা করেন যে, আগামী ৫ বছরে দেশব্যাপী ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হবে যাতে গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা হয়।
৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "জনগণের লুণ্ঠিত অর্থ জনগণকে ফেরত দেওয়া হবে। জনগণের ভাগ্য নিয়ে কেউ ছিনিমিনি খেললে ৫ আগস্টের মতোই মানুষ জবাব দেবে।" তিনি ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করে সতর্ক করে দেন যে, যারা গণভোটের রায়কে ভিন্নখাতে নিতে চায়, তারা দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চাইছে।


আপনার মতামত লিখুন :