বিষাদ মিনার
বিষাদ মিনারের পাদদেশে দাঁড়িয়ে
তোমারই পথপানে চেয়ে আছি।
তোমায় ভালোবেসে উপহার পেয়েছি কলঙ্ক,
তবুও ভালোবাসার গ্রাসে
সে কলঙ্ক তিলক মেখেছি কপোলে।
বিশ্বাস ছিল
অন্তত তুমি আমার সে তিলকে
বৃন্দাবনের গোপিনীদের হুতাশের কারণ হবে না।
তোমার দুষ্টু দুর্ভাবনা এড়িয়ে
বাজাতে চেয়েছি প্রাণের প্রণয়ী বাঁশি।
এখনও কত কত দিন কেঁদে সন্ধ্যে হয়,
রাত হলে জেগে উঠি
আমাদের মিলন-স্মৃতি-সৌধে
অপেক্ষার অবসান, মিলন-ধ্বনি।
কত কত রাত পেরিয়ে ভোর হলে
কেটে গেছে তোমার অপেক্ষা,
সুখবতী!
বৃন্দাবনে ভোর থেকে রাত অবধি
জেগে থাকে কৃষ্ণ-কৃপা,
তুলসী-প্রদীপে রাধা-কৃষ্ণের বন্দনা হয়
নেভে না আশার প্রদীপ।
বিষাদ মিনারের পাদদেশে দাঁড়িয়ে
তোমারই পথপানে তাকিয়ে আছি।
একটু শান্তিতে ঘুমোতে চাই
আহা! মানুষ হিসেবে একটু শান্তিতে ঘুমোতে চাই...!
এই জনপদে আনন্দ মরে গেছে,
আনন্দহীন হৃদয়-আঙিনায়
ফোটে না বেলি, রজনীগন্ধা।
বেঁচে থাকার ঠিকানা
নাই হতে হতে
নাই হয়ে গেছে।
পালিয়ে যাচ্ছি
ফিরে দেখি, পিছনে
পিছিয়ে কিছুই নেই।
মন নেই,
ছায়া নেই,
মায়া নেই।
যা আছে
কিছু অপচিকীর্ষা, লোমশ, উদগ্র স্পর্শের হাত,
ছুঁয়ে দিতে চায়।
ধরতে পারি না এমন করে কারও হাত
যে হাতের মুঠোয়
তর্জনী ঘুমে আগলে রাখবে আমায়।
ভরসা দিয়ে বলতে পারে
এমন কেউ আছে কোথায়?
আহা!
মানুষ হিসেবে
একটু শান্তিতে ঘুমোতে চাই।


আপনার মতামত লিখুন :