বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান ধমনী ‘হরমুজ প্রণালি’ নিয়ে নতুন কঠোর অবস্থান ঘোষণা করেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি সব জাহাজের জন্য উন্মুক্ত নয়। কেবল সেই জাহাজগুলোই এই পথ দিয়ে যাতায়াত করতে পারবে, যারা ‘আগ্রাসী’ শক্তির অংশ নয় এবং তাদের সঙ্গে কোনোভাবে সম্পর্কিতও নয়।
টিভি চ্যানেল ‘নিউজরুম আফ্রিকা’কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বাঘাই এই সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেন। তাঁর এই বক্তব্য বিশ্ব তেলের বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ইসমাইল বাঘাই স্পষ্ট করে বলেন, “হরমুজ প্রণালি সেই সব জাহাজের জন্য উন্মুক্ত থাকবে যারা আমাদের শত্রু বা আগ্রাসী শক্তির কোনো অংশ নয়। তবে কোনো জাহাজকে এই পথ দিয়ে যেতে হলে অবশ্যই আমাদের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করতে হবে। ইরানের অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ যাতায়াত করতে পারবে না।”
সংঘাতের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বাঘাই বলেন, ইরান আর কোনো ‘দুষ্টচক্রের’ ফাঁদে পা দেবে না। তিনি বলেন, “আমরা যুদ্ধ, তারপর আলোচনার নাটক, এরপর আবার সাময়িক যুদ্ধবিরতি এই ধরনের চক্র আর সহ্য করব না। এটি কেবল সময়ক্ষেপণের কৌশল ছাড়া আর কিছু নয়।”
গত জুন মাসে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলা ১২ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, “সে সময় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বেশ কয়েকটি পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল। তখন তারা বলেছিল চলুন থামি, আমরা থেমেছিলাম। কিন্তু নয় মাস যেতে না যেতেই তারা আবার হামলা শুরু করল। এই প্রতারণা আর চলবে না।”
ইরানের এই ‘সমন্বয় করে জাহাজ চলাচল’ করার নীতি মূলত হরমুজ প্রণালিতে তাদের পূর্ণ সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার একটি প্রয়াস।
উল্লেখ্য, বিশ্ববাজারের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি তেল এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন দাবি করছেন যে তাঁরা ইরান অভিযানের লক্ষ্যপূরণের কাছাকাছি, ঠিক তখনই তেহরানের এই অনড় অবস্থান ওয়াশিংটনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইসমাইল বাঘাইয়ের এই বক্তব্যের মাধ্যমে ইরান বিশ্ব সম্প্রদায়কে বার্তা দিল যে পারস্য উপসাগরের চাবিকাঠি এখনো তাদের হাতেই। বিশেষ করে গতকাল ট্রাম্পের দেওয়া ভাষণের পর ইরানের এই পাল্টা অবস্থান প্রমাণ করে যে, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা সহজে কমছে না।


আপনার মতামত লিখুন :