দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর অবশেষে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এক্সে (টুইটার) এই ঘোষণা দেন। তবে এই ঘোষণায় স্বস্তি ফেরার বদলে নৌ-বাণিজ্য বিশ্বে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একদিকে ইরান শর্ত দিয়েছে যে জাহাজগুলোকে তাদের নির্ধারিত ‘নিরাপদ লেন’ দিয়েই চলতে হবে, অন্যদিকে মার্কিন নৌ-অবরোধও বহাল রয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, লেবাননের যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে প্রণালিটি উন্মুক্ত করা হয়েছে। তবে ইরানের শক্তিশালী বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এবং দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এই ঘোষণার তীব্র সমালোচনা করেছেন। গালিবাফ সাফ জানিয়েছেন, “যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ বহাল থাকলে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত থাকবে না।” তিনি ট্রাম্পের সাম্প্রতিক দাবিগুলোকে ‘মিথ্যা’ বলেও অভিহিত করেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি খোলার বিষয়টিকে “বিশ্বের জন্য একটি মহান ও উজ্জ্বল দিন” হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ভাণ্ডার যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দিতে রাজি হয়েছে। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে এই দাবি নাকচ করে দিয়েছে। ট্রাম্প আরও জানিয়েছেন যে, শান্তি চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরানের ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধ অব্যাহত থাকবে।
আন্তর্জাতিক নৌ-বাণিজ্য সংস্থাগুলো এখনও এই পথ ব্যবহার করতে দ্বিধায় রয়েছে। শিপ ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, প্রণালিতে জাহাজের আনাগোনা খুবই সীমিত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরান সমুদ্রপথে যে মাইন পুঁতে রেখেছে, সেগুলো অপসারণ না করা পর্যন্ত কোনো জাহাজই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেখানে ঢুকতে চাইছে না। আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের প্রধান আর্সেনিও ডমিঙ্গুয়েজ বলেন, “আমাদের স্পষ্ট নিশ্চয়তা প্রয়োজন যে এই রুটটি আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী নিরাপদ।”
বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এক অভিনব উদ্যোগ নিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ের স্টারমার। তিনি জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের সুরক্ষায় যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স একটি বহুজাতিক ‘প্রতিরক্ষামূলক’ মিশনের নেতৃত্ব দেবে। ৪৯টি দেশের প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠক শেষে তিনি এই ঘোষণা দেন। তবে এই মিশনটি তখনই কার্যকর হবে যখন ওই অঞ্চলের চলমান লড়াই পুরোপুরি বন্ধ হবে।


আপনার মতামত লিখুন :