মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন রণক্ষেত্র। ইরানের আকাশসীমায় একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর নিখোঁজ পাইলট ও ক্রু-সদস্যদের উদ্ধারে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে এক বিশাল তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এবং নিউ ইয়র্ক টাইমসকে একজন শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তা এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে, যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়া এবং পাইলট নিখোঁজের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে নতুন করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম ‘তাসনিম নিউজ এজেন্সি’ দাবি করেছে, ইরানি সীমানায় বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র মরিয়া হয়ে তাদের পাইলটের সন্ধান করছে। মার্কিন হেলিকপ্টার, বিশেষ বিমান এবং নজরদারি ড্রোন এই তল্লাশি অভিযানে অংশ নিচ্ছে।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে। একজন সংবাদ উপস্থাপক লাইভ অনুষ্ঠানে ঘোষণা করেছেন, “কোনো ব্যক্তি যদি ওই মার্কিন পাইলটকে জীবিত বন্দি করতে পারেন, তবে তাকে বিশেষ পুরস্কার প্রদান করা হবে।” এই ঘোষণা যুদ্ধক্ষেত্রে মনস্তাত্ত্বিক লড়াইকে আরও উসকে দিয়েছে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, মার্কিন বাহিনী তাদের নিখোঁজ ক্রু-সদস্যদের উদ্ধারে একটি সমন্বিত ‘সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ’ অপারেশন পরিচালনা করছে। যদিও মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) শুরুতে হরমুজ প্রণালির কেশম দ্বীপের ওপর কোনো বিমান ভূপাতিত হওয়ার খবর অস্বীকার করেছিল, তবে বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে তাদের নতুন কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন বিষয়টি নিয়ে অত্যন্ত গোপনীয়তা রক্ষা করছে।
বিবিসি জানিয়েছে, তারা ইরানি গণমাধ্যম এবং মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবির সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। তবে এই এলাকায় মার্কিন ড্রোন ও নজরদারি বিমানের অস্বাভাবিক উপস্থিতি একটি বড় ধরনের দুর্ঘটনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি সত্যিই কোনো মার্কিন পাইলট ইরানের হাতে বন্দি হন, তবে সেটি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের জন্য এক বিশাল রাজনৈতিক ও সামরিক ধাক্কা হবে। এটি যুদ্ধের মোড় অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিতে পারে এবং বন্দি বিনিময় বা নতুন কোনো শর্তের পাহাড় দাঁড় করাতে পারে ইরান।


আপনার মতামত লিখুন :