ঢাকা রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩
Daily Global News

হরমুজের পর এবার লোহিত সাগর বন্ধের ছক ইরানের, নিশানায় বিশ্ব জ্বালানি বাজার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ১৭, ২০২৬, ১০:১০ এএম

হরমুজের পর এবার লোহিত সাগর বন্ধের ছক ইরানের, নিশানায় বিশ্ব জ্বালানি বাজার

ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তি থেকে বেরিয়ে এসে হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ জারির পর এবার আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহনের আরেক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রুট লোহিত সাগরের জলপথ বন্ধ করে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো আগ্রাসী পদক্ষেপের কড়া জবাব দিতে ইয়েমেনে নিজেদের মদতপুষ্ট হুথি গোষ্ঠীকে ইতোমধ্যে এই জলপথ অবরুদ্ধ করার জন্য তেহরান থেকে গোপন নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স ইরানের দুটি উচ্চপর্যায়ের সূত্র এবং একটি আঞ্চলিক সূত্রের বরাত দিয়ে এই বিস্ফোরক তথ্য জানিয়েছে। হুথি গোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্যমতে, তেহরান থেকে নির্দেশ আসার পর লোহিত সাগর অবরুদ্ধ করার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি প্রায় শেষ করে এনেছে তারা। ইতোমধ্যে লোহিত সাগরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ হিসেবে পরিচিত বাব এল-মান্দেব প্রণালির চারপাশে ড্রোন ও বিপুলসংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করা হয়েছে। তবে এই স্পর্শকাতর বিষয়ে বিস্তারিত জানতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং হুথি গোষ্ঠীর মুখপাত্রদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কেউ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের সামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলা শেষ করে আগামী সপ্তাহে দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতুসহ গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে বোমাবর্ষণ শুরু করে, তবেই ইরান এই চরম পরিকল্পনার বাস্তবায়ন শুরু করবে। মার্কিন বাহিনী বেসামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার যে নীতি গ্রহণ করার হুমকি দিয়েছে, মূলত তার পাল্টা ও চূড়ান্ত ব্যবস্থা হিসেবেই লোহিত সাগরে এই নজিরবিহীন অবরোধের ছক কষা হয়েছে।

হুথি গোষ্ঠী যদি সত্যিই বাব এল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করে দেয়, তবে তা আন্তর্জাতিক জ্বালানি খাতের জন্য এক ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনবে। মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি পণ্য এশিয়া ও পশ্চিমা বিশ্বে পৌঁছানোর প্রধান দুটি পথ হলো হরমুজ প্রণালি এবং লোহিত সাগর। বিশ্বের মোট জ্বালানি পণ্যের ২৫ শতাংশ হরমুজ দিয়ে এবং ৭ শতাংশ লোহিত সাগর দিয়ে পরিবাহিত হয়। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ জারির পর তেহরান ইতোমধ্যেই হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা করেছে। এখন লোহিত সাগরও অবরুদ্ধ হলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানির সরবরাহ ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়বে।

লোহিত সাগর অবরুদ্ধ হলে সবচেয়ে বড় বিপদে পড়বে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তেল উত্তোলনকারী দেশ সৌদি আরব। দেশটি বিশ্ববাজারে যে পরিমাণ জ্বালানি রপ্তানি করে, তার প্রায় ৭০ শতাংশই পরিবাহিত হয় লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দর দিয়ে। শুধু জলপথ অবরুদ্ধ করাই নয়, হুথি বিদ্রোহীরা যেকোনো সময় লোহিত সাগর এলাকার সামুদ্রিক বন্দরগুলোতেও ভয়াবহ হামলা চালাতে পারে বলে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সূত্র: বিবিসি

ডিজিএন/এনএস

banner
Link copied!