ঢাকা বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩
Daily Global News

বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট সাময়িক স্থগিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ২৬, ২০২৬, ০১:৫৬ পিএম

বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট সাময়িক স্থগিত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে চলমান কঠোর অভিবাসনবিরোধী অভিযানের মধ্যেই এবার বিশ্বজুড়ে ভিসা আবেদনকারীদের অ্যাপয়েন্টমেন্ট বা সাক্ষাৎকার সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে মার্কিন প্রশাসন।

গতকাল মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র জানান, বিশ্বের সব মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে একটি বৈশ্বিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এই প্রশিক্ষণের সঙ্গে সমন্বয় করতেই ভিসাসেবা সংক্রান্ত অ্যাপয়েন্টমেন্টের সময়সূচিতে পরিবর্তন বা স্থগিতাদেশ আনা হচ্ছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এই প্রশিক্ষণের বিস্তারিত বা সময়সীমা সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কিছু জানায়নি। তবে তারা জানিয়েছে, যেসব আবেদনকারী ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সুযোগ-সুবিধা বা জনকল্যাণমূলক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন, তাঁদের শনাক্ত করতে কনস্যুলার কর্মকর্তাদের দক্ষ করে তোলাই এই প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য। পাশাপাশি ভিসা আবেদনকারীদের মূল্যায়ন যেন ‘সমন্বিত ও ধারাবাহিকভাবে’ করা হয়, সেটিও নিশ্চিত করা হবে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস প্রথম ভিসা স্থগিতের এই খবর প্রকাশ করে। সংবাদমাধ্যমটি জানায়, যেসব অভিবাসী ভিসাপ্রার্থীর সাক্ষাৎকারের সময়সূচি আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল, মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেট থেকে তাঁদের ই-মেইলের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট পুনর্নির্ধারণের বিষয়টি জানানো হচ্ছে। নতুন তারিখ পরে জানিয়ে দেওয়া হবে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই আগ্রাসীভাবে অবৈধ অভিবাসী বহিষ্কার ও অভিবাসনবিরোধী কঠোর অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। এমনকি রাজনৈতিক মতামত কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ইসরায়েলের গাজায় হামলার বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার মতো কারণেও অনেকের মার্কিন ভিসা ও গ্রিন কার্ড বাতিল করা হচ্ছে। ট্রাম্পের দাবি, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তবে ট্রাম্প প্রশাসনের এই নীতি আইনি বাধারও সম্মুখীন হচ্ছে। গত শুক্রবার (২২ আগস্ট) যুক্তরাষ্ট্রের একজন বিচারক প্রশাসনের এমন একটি নীতি বাতিল করে দিয়েছেন, যার অধীনে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা দেওয়া স্থগিত করা হয়েছিল। ওই বিচারক রায়ে বলেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তাঁর আইনগত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন।

ট্রাম্প প্রশাসনের এসব পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। তাদের অভিযোগ, এই অভিযান সম্পূর্ণ বৈষম্যমূলক এবং এটি মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অধিকার লঙ্ঘন করছে। সংগঠনগুলোর দাবি, এসব কঠোর পদক্ষেপের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে জাতিগত সংখ্যালঘুদের জন্য একটি অনিরাপদ পরিবেশ তৈরি হয়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে তাঁরা বিশেষ নজরদারি ও সন্দেহের শিকার হচ্ছেন।

২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে ডোনাল্ড ট্রাম্প মূলত অবৈধ অভিবাসন বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর তাঁর প্রশাসনের বর্তমান নীতিতে অবৈধ অভিবাসীদের পাশাপাশি বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পথও কঠিন হয়ে উঠেছে। এর উদাহরণ হিসেবে নির্দিষ্ট কিছু কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসার আবেদনকারীদের জন্য নতুন ও অত্যন্ত ব্যয়বহুল ফি আরোপের বিষয়টিকে সামনে এনেছেন বিশ্লেষকেরা।

ডিজিএন/এফএ

banner
Link copied!