ঢাকা মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩
Daily Global News

রোহিঙ্গা সংকটের ৯ বছর: প্রত্যাবাসনে চীনের দিকে তাকিয়ে ঢাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: আগস্ট ২৫, ২০২৬, ১০:৪৬ এএম

রোহিঙ্গা সংকটের ৯ বছর: প্রত্যাবাসনে চীনের দিকে তাকিয়ে ঢাকা

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে অভ্যন্তরীণ সংঘাত, জান্তা সরকারের দমন-পীড়ন ও চরম অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে লাখ লাখ রোহিঙ্গার বাংলাদেশে আশ্রয়ের আজ নয় বছর পূর্ণ হলো। দীর্ঘ এই সময়ে একজন রোহিঙ্গাকেও মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি। এমনকি কবে নাগাদ এই প্রত্যাবাসন শুরু হবে, সে বিষয়েও নীতিনির্ধারকদের কাছে কোনো সুস্পষ্ট রূপরেখা নেই।

বর্তমানে প্রায় ১৫ লাখ মানুষের এই বিশাল বোঝায় বিপর্যস্ত বাংলাদেশ। সংকট সমাধানে আপাতত চীনের ওপরই ভরসা রাখতে চাইছে ঢাকা। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, ভূরাজনৈতিক কৌশলগত অবস্থান কাজে লাগিয়ে ঢাকা-বেইজিং-নেপিদোর ত্রিপক্ষীয় উদ্যোগে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জট খুলতে পারে। তবে এই দীর্ঘস্থায়ী সংকটকে আন্তর্জাতিক পরিসরে আলোচনায় ধরে রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইনে সামরিক বাহিনীর চরম সহিংসতার মুখে প্রাণভয়ে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা। সংকট সমাধানে ঢাকা দ্বিপক্ষীয় চুক্তিসহ নানা উদ্যোগ নিলেও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর ভূমিকার মতভেদে তা বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ২০১৯ সালে নিউইয়র্কে ত্রিপক্ষীয় উদ্যোগের মাধ্যমে নতুন আশার সঞ্চার হলেও তা বাস্তবে রূপ নেয়নি।

তবে দীর্ঘ এই সময়ে প্রথম দফায় প্রায় ৮০ হাজার এবং সম্প্রতি আরও প্রায় ৩ লাখ রোহিঙ্গাকে মিয়ানমার তাদের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ায় কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জাতিসংঘ মহাসচিবকে নিয়ে প্রত্যাবাসন শুরুর ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরেও রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে বাংলাদেশের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছে বেইজিং।

এ বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, “চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের কৌশলগত অংশীদারত্ব নিয়ে আমরা আশাবাদী। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হওয়ায় রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।” মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে কাজ করে এ সংকট সমাধানের পথে এগোনো সম্ভব বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এদিকে, ১৫ লাখের বেশি রোহিঙ্গার ভরণপোষণে বৈশ্বিক সহায়তা কমতে কমতে প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তে নতুন নতুন সংকট তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগও দ্রুত সরে যাচ্ছে। এমন কঠিন পরিস্থিতিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় কিছুটা আশার আলো দেখছে ঢাকা। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশের বর্তমান প্রেসিডেন্সির মাধ্যমে রোহিঙ্গা সংকটকে আবারও জোরালোভাবে বিশ্ববাসীর নজরে আনা সম্ভব হবে।

রোহিঙ্গা সংকটের কারণে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে ব্যাপকভাবে বিপর্যস্ত। বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, প্রত্যাবাসনের প্রচেষ্টার পাশাপাশি বিশাল এই জনগোষ্ঠী যাতে কোনোভাবেই জাতীয় ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠতে না পারে, সেদিকে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।

সাবেক রাষ্ট্রদূত মাহফুজুর রহমান বলেন, “বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও চীনের মধ্যে অর্থনৈতিক করিডোর গড়ে তোলা এবং বাণিজ্যের প্রসার ঘটানোর ক্ষেত্রে চীন বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে। তাই আমরা আশা করছি, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীন একটি অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।”

পাশাপাশি, রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো হত্যা ও জাতিগত নিধনের দায়ে আন্তর্জাতিক আদালতে চলমান বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার ওপরও জোর দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।

ডিজিএন/এনএস

banner
Link copied!