ঢাকা বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩
Daily Global News

নেপালে প্রলয়ংকরী বন্যা: নিহত বেড়ে ৯১৯, নিখোঁজ প্রায় ৫ হাজার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ৩১, ২০২৬, ১২:৫৬ পিএম

নেপালে প্রলয়ংকরী বন্যা: নিহত বেড়ে ৯১৯, নিখোঁজ প্রায় ৫ হাজার

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯১৯ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা হু হু করে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৭৯৩ জনে। আজ সোমবার (৩১ আগস্ট) নেপাল পুলিশের দেওয়া সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যে প্রাণহানি ও নিখোঁজের এই ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। উদ্ধারকাজের ষষ্ঠ দিনে এসে নিখোঁজদের জীবিত উদ্ধারের আশা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে।

নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা এবং চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রলয়ংকরী এই বন্যায় নেপালে ৯০৩ জন এবং চীনের তিব্বতে ১৬ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, নেপালে ৪ হাজার ২৪৭ জন এবং তিব্বতে ৫৪৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

তবে দুর্গম এলাকায় যোগাযোগবিচ্ছিন্ন থাকা, নিখোঁজের তালিকায় একই ব্যক্তির নাম একাধিকবার ওঠা এবং উদ্ধার হওয়ার পরও নাম বাদ না পড়ার কারণে বিভিন্ন সংস্থার পরিসংখ্যানে কিছুটা পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। ফলে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত হিসাব পাওয়া কঠিন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

নিখোঁজদের তালিকায় নেপালি নাগরিকদের পাশাপাশি ৫৯২ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত ৯৩৩ জন শ্রমিক এবং নেপালি সেনাবাহিনী, পুলিশ ও অভিবাসন বিভাগের শতাধিক সদস্য নিখোঁজ রয়েছেন। বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রসুয়া ও নুয়াকোট জেলা। কেবল নুয়াকোটেই ১ হাজার ১৫৮ জন এবং রসুয়ায় ৫৬২ জনের কোনো খোঁজ মিলছে না।

এদিকে ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নেপাল থেকে প্রবাহিত নদ-নদী থেকে তারা ১৭ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে, যা আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো নেপালের মৃত বা নিখোঁজের হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হয়নি।

লাশের সারি দীর্ঘ হতে থাকায় এবং শত শত উদ্ধারকৃত মরদেহে পচন ধরায় সেগুলো গণকবর দেওয়া বা গণসৎকার শুরু করেছে নেপাল প্রশাসন। তবে ভবিষ্যতে স্বজনেরা যেন তাঁদের পরিচয় শনাক্ত করতে পারেন, সে জন্য সমাহিত করার আগে প্রতিটি মরদেহের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে রাখা হচ্ছে। এর মধ্যেই মর্গে মর্গে স্কুলের টাই, পরনের গয়না বা শরীরের ট্যাটু দেখে প্রিয়জনের বিকৃত মরদেহ শনাক্ত করছেন অনেক স্বজন।

গত ২৬ আগস্ট ভোতেকোশি এবং এর শাখানদী লেহন্দেতে তুষার ও পাথর জমে সৃষ্ট একটি জলাধার বা ‘ব্যারিয়ার লেক’ ভেঙে এই ভয়াবহ বন্যার সূত্রপাত হয়। লাখ লাখ ঘনমিটার পানি, কাদা ও পাথরে ঢেকে যায় দুই দেশের বিস্তীর্ণ এলাকা।

রেড ক্রসের হিসাবে, এই বিপর্যয়ে অন্তত ৯০ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, যাঁদের মধ্যে ১০ হাজার জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্গম এলাকাগুলোতে সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার প্রতিদিন গড়ে ৫০০ বার চক্কর দিয়ে আটকে পড়াদের উদ্ধার করছে। তবে এসবের মধ্যেই নতুন করে আরেকটি জলাধারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় আবারও বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা উদ্ধারকাজে চরম উদ্বেগ তৈরি করেছে।

ডিজিএন/এনএস

banner
Link copied!