নেপালের ত্রিশূলী নদীর তীরে কাদায় ভরা বিশাল সুড়ঙ্গ বা টানেল নেটওয়ার্কের ভেতরে শত শত কর্মী আটকা পড়ে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত বুধবারের প্রলয়ংকরী বন্যার পর থেকে ভোটেকোশি-ত্রিশূলী নদীর ১১টি ক্ষতিগ্রস্ত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ৯০০ জনের বেশি কর্মী যোগাযোগবিচ্ছিন্ন রয়েছেন।
উদ্ধারকারীদের শঙ্কা, জীবিতদের কাছে পৌঁছানোর সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। তবে স্বজনেরা এখনো আশায় বুক বেঁধে আছেন যে, তাঁদের প্রিয়জনদের জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হবে।
নেপাল সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজরাম বসনেত জানান, রসুয়াগড়ি, লাংটাং, চিলিমে, আপার ত্রিশূলী ৩এ এবং আপার ত্রিশূলী ৩বি এলাকায় জোরদার উদ্ধার অভিযান চলছে। ত্রিশূলী-৩এ প্রকল্প এলাকায় পাহাড়ের ভেতরে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পথ তৈরির পাশাপাশি সুড়ঙ্গে বাতাস পাম্প করা হচ্ছে।
সোমবার সকালে একটি দল একটি সুড়ঙ্গে প্রবেশ করতে পারলেও কাউকে না পেয়ে ফিরে আসে। উদ্ধারকাজে নেপালি ও চীনা সামরিক সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত একটি আন্তর্জাতিক দলের পাশাপাশি ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার বিশেষজ্ঞরাও সহায়তা করছেন।
আটকে পড়া কর্মীদের স্বজনেরা উদ্ধারকাজের ধীরগতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন। নিখোঁজ প্রকৌশলী অরুস ভান্ডারির স্ত্রী অনুশিলা বলেন, "আমি শুধু চাই সে বাড়ি ফিরে আসুক।" আরেক নিখোঁজ কর্মীর স্বজন সিতা পাণ্ডে বলেন, "ভেতরে অক্সিজেনের ব্যবস্থা থাকায় আমার এখনো আশা আছে সে বেঁচে আছে।"
নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ জানিয়েছেন, উদ্ধার অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে এবং প্রকল্প এলাকাগুলো থেকে এখন পর্যন্ত ২৭৯ জনসহ মোট ১১ হাজার ৩৭৯ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
দূর থেকে নেপালি কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করা অস্ট্রেলীয় প্রকৌশলী আর্নল্ড ডিক্স জানান, বন্যার প্রবল ধাক্কায় ভূপৃষ্ঠের চিহ্ন মুছে যাওয়ায় সুড়ঙ্গগুলোর অবস্থান শনাক্ত করা চরম কঠিন হয়ে পড়েছে।
নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, নেপাল-তিব্বত সীমান্তে এই বন্যা বিপর্যয়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯৩৯ জনে দাঁড়িয়েছে। নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা সংশোধন করে ৩ হাজার ৯২৫ জন করা হয়েছে, যাঁদের মধ্যে ৫৯২ জন বিদেশি নাগরিক। নিখোঁজদের মধ্যে প্রতি সাতজনে একজন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কর্মী বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, বন্যার মূল আঘাত হানা স্থান থেকে বহু দূরে ভাটির দিকে অবস্থিত চিতওয়ান জেলায় ভেসে আসা প্রায় তিন শ অজ্ঞাত মরদেহ অস্থায়ীভাবে দাফন করা হচ্ছে। দুর্গন্ধ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে পর্যাপ্ত মর্গের অভাবে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে এসব দাফন সম্পন্ন করা হচ্ছে।
এর বাইরে, চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, তিব্বতে এখন পর্যন্ত ১৬ জনের মৃত্যু ও ৫৪৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তবে চীনে বন্যার প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির ভিডিও ও তথ্য সেন্সর করা হচ্ছে এবং নেপালেও গুজব রোধে বিভিন্ন অনলাইন কনটেন্ট সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সূত্র: বিবিসি


আপনার মতামত লিখুন :