ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে বিমান হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা আঘাত হেনেছে ইরানের এলিট ফোর্স ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাতে কুয়েত, জর্ডান, ইরাক ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন অবকাঠামো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে তারা। এর আগে মঙ্গলবার রাতে হরমুজ প্রণালির পাশে দক্ষিণ ইরানের কয়েকটি এলাকায় ভয়াবহ হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী।
আল-জাজিরা ও ইরানের গণমাধ্যমের তথ্যমতে, মঙ্গলবার রাতে দক্ষিণ ইরানের বন্দর আব্বাস, কেশম দ্বীপ, কোনারাক, চাবাহার, জাস্ক, সিরিক, লাভান, আসলুয়েহ এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় আহভাজ প্রদেশে বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র।
এর মধ্যে সিরিক কাউন্টির কুহেস্তাক শহরে একটি বিয়েবাড়িতে মার্কিন হামলায় এক শিশুসহ অন্তত পাঁচজন নিহত এবং ৬৩ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় গভর্নর রেজা শহিদিয়ান জানান, হতাহতদের মধ্যে ৫০ জনই নারী ও শিশু।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে আগের ‘ধারাবাহিক নৃশংসতার’ অংশ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
এর আগে যুদ্ধের প্রথম দিনে মিনাবের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এবং লামার্দের একটি ক্রীড়া কমপ্লেক্সে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় বহু বেসামরিক মানুষ নিহত হওয়ার দাবি করেছিল ইরান।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে আইআরজিসির হামলার চেষ্টার জবাবেই ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, রাডার ও সামুদ্রিক সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে।
ইরানে হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আইআরজিসি মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে প্রতিশোধমূলক হামলা শুরু করে। আইআরজিসির দাবি, জর্ডানের ‘ক্যাম্প তিতিন’–এ মার্কিন মেরিন সেনাদের ব্যারাকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অনেক মার্কিন সেনা নিহত এবং বেশ কয়েকটি অ্যাটাক হেলিকপ্টার ধ্বংস হয়েছে।
এ ছাড়া জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটিতে দীর্ঘপাল্লার ড্রোন রাখার হ্যাঙ্গারগুলোতেও ভারী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে তারা। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও জর্ডান এই হামলায় হতাহতের দাবি নাকচ করে দিয়েছে।
জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করা ১৩টি ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ১০টি মাঝপথেই ধ্বংস করা হয়েছে।
অন্যদিকে, বাহরাইনের শেখ ঈসা ঘাঁটিতে বড় আকারের ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান, যার লক্ষ্য ছিল মার্কিন সেনাদের জমায়েত ও রাডার ব্যবস্থা। পাশাপাশি ইরাকে থাকা মার্কিন সেনাদের ওপরও হামলা চালিয়েছে আইআরজিসি।
কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমায়ও ড্রোনের অনুপ্রবেশ ঘটেছে এবং আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা দিয়ে তা ভূপাতিত করার প্রস্তুতি চলছে।
গত জুলাইয়ের পর গত রোববার রাতে প্রথমবার দুই দেশের সরাসরি পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটে। এরপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানকে কঠোর আঘাত হানার হুমকি দিয়েছিলেন এবং সতর্ক করেছিলেন যে ইরান পাল্টা আঘাত হানলে আরও ভয়ংকর হামলা চালানো হবে।
এই হুমকির মধ্যেই মঙ্গলবার রাতে নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে হরমুজ প্রণালিসহ গোটা অঞ্চলে উত্তেজনা এখন চরমে পৌঁছেছে। সূত্র: বিবিসি


আপনার মতামত লিখুন :