বিশ্বজুড়ে দুর্নীতির ধারণাসূচকে (সিপিআই) বাংলাদেশের অবস্থানের আরও অবনতি হয়েছে। বার্লিনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের (টিআই) ২০২৫ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান এখন ১৩তম। এর আগের বছর এই অবস্থান ছিল ১৪তম। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে বাংলাদেশ আরও এক ধাপ নিচে নেমেছে।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর ধানমন্ডিতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এক সংবাদ সম্মেলনে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, ১০০ স্কোরের মধ্যে বাংলাদেশের প্রাপ্ত স্কোর মাত্র ২৪। ১৮০টি দেশের মধ্যে এই স্কোরকে ‘খুবই হতাশাব্যঞ্জক’ ও ‘বিব্রতকর’ বলে অভিহিত করেছে টিআইবি।
সংস্থাটির মতে, বাংলাদেশ এখন ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ দুর্নীতিপ্রবণ’ দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত। বিশেষ করে অর্থপাচার রোধে চরম ব্যর্থতা এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে ‘চোরতন্ত্র’ বন্ধ না হওয়াকে এই অবনতির প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভুটান সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে (স্কোর ৬৮)। এরপরই রয়েছে ভারত। তবে এই অঞ্চলে আফগানিস্তানের পরেই সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। অর্থাৎ দক্ষিণ এশিয়ায় দুর্নীতির দিক থেকে দ্বিতীয় শীর্ষ দেশ এখন বাংলাদেশ।
টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক বলেন, “১৮০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে সক্ষমতা হারিয়ে ফেলছে। চোরতন্ত্র এবং অর্থপাচার রোধ করতে না পারা বাংলাদেশের জন্য চরম ব্যর্থতা। এছাড়া যেসব দেশে দুর্নীতি বেশি, সেখানে গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজ ব্যাপক চাপে থাকে বাংলাদেশেও এই দৃশ্যটি প্রতীয়মান।”
এবারের সূচকে যৌথভাবে বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে নাম এসেছে দক্ষিণ সুদান ও সোমালিয়ার।
অন্যদিকে, টানা কয়েক বছরের মতো বিশ্বের সবচেয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে ডেনমার্ক। সূচকে দেখা গেছে, বিশ্বের ৮০ শতাংশ মানুষই বর্তমানে উচ্চ দুর্নীতিগ্রস্ত দেশে বসবাস করছে এবং বৈশ্বিকভাবে দুর্নীতির ব্যাপকতা দিন দিন বাড়ছে।


আপনার মতামত লিখুন :