টানা বৃষ্টি আর পথের নানা ভোগান্তি উপেক্ষা করে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছে মানুষ। তবে এবারের ঈদযাত্রায় সবচেয়ে বড় শঙ্কার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে সড়ক দুর্ঘটনা। সড়ক অব্যবস্থাপনা ও যাত্রী অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি’র তথ্য অনুযায়ী, ঈদযাত্রা শুরুর পর গত ২১ মে থেকে ২৬ মে পর্যন্ত মাত্র ৬ দিনে দেশে ১৩৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৬১ জন নিহত এবং ৩৮৯ জন আহত হয়েছেন।
এরই মধ্যে গত ২৫ মে টাঙ্গাইলের সরাতৈল দক্ষিণপাড়া এলাকায় রডবোঝাই ট্রাক উল্টে ১৫ জন নিহতের ঘটনাটি দেশজুড়ে শোকের ছায়া ফেলেছে। চট্টগ্রাম থেকে রাজশাহীর নিজ বাড়িতে ফেরার পথে কম খরচে ট্রাকে চড়েছিলেন ওই হতভাগ্য দিনমজুরেরা। যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণ বলছে, দূরপাল্লার বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্যের কারণেই নিম্নআয়ের মানুষ বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাসের ছাদে, ট্রেনের ছাদে কিংবা খোলা ট্রাকে বাড়ি ফিরছেন। কেবল ২৭টি রুটের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ২৬টি রুটেই ২ লাখ ৩৪ হাজার যাত্রীর কাছ থেকে ৫ কোটি ৬১ লাখ ৯৩ হাজার টাকা বাড়তি ভাড়া হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এবার কোরবানির ঈদে সরকার ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত টানা ৭ দিনের লম্বা ছুটি ঘোষণা করায় মানুষ ধাপে ধাপে ঢাকা ছেড়েছেন। ফলে ঈদের আগের দিন আজ মহাসড়কগুলোতে চিরচেনা তীব্র যানজট দেখা যায়নি। সাভারের গার্মেন্টস অধ্যুষিত এলাকা এবং গাজীপুরের চন্দ্রা ও কালশী এলাকায় গতকাল তীব্র চাপ থাকলেও আজ সকালের পর থেকে মহাসড়ক অনেকটাই ফাঁকা। তবে বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল কিছুটা ধীরগতির। অন্যদিকে পদ্মা সেতু ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক আজ সম্পূর্ণ নিরিবিলি রয়েছে।
নৌপথে ঢাকার সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে অন্যান্য রুটের যাত্রী কম থাকলেও ১৯ ও ২০ নম্বর পন্টুনে চাঁদপুরগামী যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। নদী বন্দরগুলোর জন্য বর্তমানে ১ নম্বর সতর্কসংকেত জারি রয়েছে।
কেমন থাকবে ঈদের দিনের আবহাওয়া? আজ বুধবার (২৭ মে) সকাল ৯টায় দেওয়া বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরবর্তী ৫ দিনের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঈদের দিন (২৮ মে) সকালে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অস্থায়ী দমকা হাওয়া ও হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
ঢাকা, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণের সম্ভাবনাকেও উড়িয়ে দিচ্ছে না আবহাওয়া অফিস। তবে ঈদের দিন যেখানেই বৃষ্টি হোক না কেন, তা ৩০ থেকে ৪০ মিনিট বা এক ঘণ্টা স্থায়ী হয়ে আবার থেমে যাবে। ঈদের পরদিনও দেশের অনেক স্থানে এই বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক জানান, আজ দুপুরের দিকে ঢাকায় বৃষ্টি সাময়িক থামলেও রাতের দিকে আবার কিছুটা বৃষ্টি হতে পারে। আগামীকাল ঈদের দিন দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কম থাকবে।
সব মিলিয়ে বৃষ্টিভেজা এক প্রতিকূল আবহাওয়ার মাঝেই আগামীকাল বৃহস্পতিবার এক ভিন্ন আমেজে দেশজুড়ে উদযাপিত হতে যাচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। শত প্রতিকূলতা আর স্বজন হারানোর শঙ্কার মাঝেও প্রিয়জনদের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে শেষ মুহূর্তের যাত্রীরা এখন নাড়ির টানে বাড়ির আঙিনায়।


আপনার মতামত লিখুন :