নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে টানা চার দিনের ছুটি পাওয়ায় নাড়ির টানে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন শিল্পনগরী গাজীপুরের লাখো শ্রমিক। ঘরমুখী মানুষের এই বিপুল চাপে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের প্রায় ৫০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে নজিরবিহীন যানজট সৃষ্টি হয়েছে। এই সুযোগে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা তিনগুণ পর্যন্ত বাড়তি ভাড়া আদায় করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকালে মহাসড়ক দুটির বিভিন্ন পয়েন্ট ঘুরে দেখা গেছে, হাজার হাজার মানুষ যানবাহনের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছেন। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গী কলেজ গেট থেকে মাওনা চৌরাস্তা এবং ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের ভোগড়া থেকে কালিয়াকৈর বাইপাস পর্যন্ত যানবাহনগুলো ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্থবির হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রতিবাদে গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা ও মাওনা এলাকায় বিক্ষুব্ধ যাত্রীরা কিছু সময় সড়ক অবরোধ করে রাখেন।
ভুক্তভোগী যাত্রীরা অভিযোগ করেন, ৫০০ টাকার ভাড়া এখন ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা চাওয়া হচ্ছে। সজিব হোসেন নামে এক যাত্রী বলেন, "সকালে গাড়ির অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে দেখি ভাড়ার সিন্ডিকেট। ৬০০ টাকার ভাড়া চাচ্ছে ১৫০০ টাকা।"
পোশাক শ্রমিক আশা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "ভোট দিতে বাড়ি যাব, কিন্তু ন্যায্য ভাড়ায় কোনো গাড়ি পাচ্ছি না।"
সোমবার বিকেল থেকে গাজীপুরের চারশতাধিক শিল্প-কারখানা ছুটি ঘোষণা করায় সন্ধ্যার পর থেকেই সড়কে ভিড় বাড়তে থাকে। উত্তরবঙ্গের ২৬ জেলার প্রবেশপথ চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় তিল ধারণের জায়গা নেই। মানুষ বাধ্য হয়ে বাস ছাড়াও ট্রাক ও পিকআপে করে গন্তব্যে রওনা দিচ্ছেন।
শ্যামলী এন আর পরিবহনের চালক আব্বাস উদ্দিন জানান, রাত ১টায় সাভার পৌঁছালেও যানজটের কারণে চন্দ্রা পৌঁছাতে সকাল হয়ে গেছে। যানের তুলনায় যাত্রীর চাপ কয়েকগুণ বেশি হওয়ায় ভাড়ার ওপর এর প্রভাব পড়ছে।
গাজীপুর রিজিয়নের নাওজোর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাউগাতুল আলম জানান, শিল্প-কারখানা ছুটি হওয়ায় মহাসড়কে এই অস্বাভাবিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সদস্যরা নিরলস কাজ করছেন। ভাড়ার নৈরাজ্য ঠেকাতে কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়কারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :