আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একই দিনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের গণভোটকে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কাঠামো নির্ধারণের ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে অভিহিত করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক বিশেষ ভাষণে তিনি এই মন্তব্য করেন।
নির্বাচনের মাত্র দুই দিন আগে দেওয়া এই ভাষণে ড. ইউনূস দেশবাসীকে নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, “আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি আমরা শুধু নতুন সরকার গঠনের জন্য নির্বাচনই করব না, বরং গণভোটের মাধ্যমে নির্ধারণ করব আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ রূপরেখা। এই দিনটি হবে একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার সূচনালগ্ন।”
জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে রাষ্ট্র সংস্কারের যে অঙ্গীকার করা হয়েছিল, তা বাস্তবায়নেই এই গণভোটের আয়োজন।
প্রধান উপদেষ্টা তাঁর ভাষণে উল্লেখ করেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নের মাধ্যমে সংবিধানে যে পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে, জনগণের রায়ে তা চূড়ান্ত হবে।
তিনি বলেন, “আপনাদের প্রতিটি ভোট একটি শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ রাষ্ট্রকাঠামো নিশ্চিত করবে, যেখানে কোনো ফ্যাসিবাদী শক্তি আর মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না।”
নির্বাচন সুষ্ঠু করতে সরকারের সর্বোচ্চ প্রস্তুতির কথা জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা কারচুপি সহ্য করা হবে না। প্রযুক্তির মাধ্যমে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা তদারকি করা হবে।” প্রথমবারের মতো প্রবাসীদের ভোটাধিকার এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পোস্টাল ব্যালটের সুযোগকেও তিনি গণতন্ত্রের বিজয় হিসেবে বর্ণনা করেন।
রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ইতিহাস যেন আর কলঙ্কিত না হয়। ক্ষমতার লোভে নয়, বরং জনকল্যাণের রাজনীতি করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, “আমরা চিরস্থায়ী নই, কিন্তু আমাদের তরুণ প্রজন্মের স্বপ্নের যে বাংলাদেশ, তা যেন চিরস্থায়ী হয়।”
ভাষণের শেষে তিনি দেশবাসীকে শান্তি ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করে নতুন ইতিহাসের অংশ হওয়ার আমন্ত্রণ জানান।


আপনার মতামত লিখুন :