ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ‘জুলাই সনদ’ গণভোট উপলক্ষে আজ বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) থেকেই শুরু হয়েছে টানা চার দিনের সাধারণ ছুটি। ভোটারদের নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে পৌঁছানো এবং নির্বাচনী কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনের সুবিধার্থে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ এই বিশেষ ছুটি ঘোষণা করেছে। সাপ্তাহিক ছুটিসহ এই অবকাশ চলবে আগামী শনিবার পর্যন্ত।
ছুটির পূর্ণাঙ্গ সময়সূচি: ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি (বুধ ও বৃহস্পতিবার): নির্বাহী আদেশে দেশব্যাপী সাধারণ ছুটি। ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি (শুক্র ও শনিবার): সাপ্তাহিক নিয়মিত ছুটি। ১৫ ফেব্রুয়ারি (রবিবার): ‘শ্রী শ্রী শিবরাত্রি ব্রত’ উপলক্ষে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিশেষ ছুটি। ফলে স্কুল-কলেজগুলো টানা ৫ দিন বন্ধ থাকছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, দেশের সকল সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস, আদালত, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এই ছুটির আওতাভুক্ত থাকবে। এছাড়া বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আজ ও আগামীকাল দেশের সকল শপিং মল ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।
সাধারণ ছুটি ঘোষিত হলেও নিরবচ্ছিন্ন জনসেবা নিশ্চিত করতে কিছু বিশেষ ক্ষেত্রকে এই বিধিনিষেধের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে: স্বাস্থ্যসেবা: সকল সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক এবং জরুরি বিভাগ সার্বক্ষণিক সচল থাকবে। ইউটিলিটি: বিদ্যুৎ, পানি (ওয়াসা), গ্যাস সরবরাহ এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কর্মীরা কর্মস্থলে থাকবেন।
সংবাদপত্র, অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও টেলিভিশন চ্যানেলের সাংবাদিক ও সংবাদকর্মীরা ছুটির আওতামুক্ত। নিরাপত্তা: পুলিশ, র্যাব, আনসার এবং নির্বাচনী শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত সশস্ত্র বাহিনী।
জরুরি পরিবহন: ভোটারদের যাতায়াত সহজ করতে মেট্রোরেল ও ট্রেন শিডিউল অনুযায়ী চলাচল করবে। তবে ট্যাক্সি, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচলে ইসির বিশেষ নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নির্বাচনকালীন এই ছুটি মূলত সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার জন্য। কেউ যেন যাতায়াত বা দাপ্তরিক ব্যস্ততার কারণে ভোট দেওয়া থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করাই এই দীর্ঘ ছুটির মূল উদ্দেশ্য। এছাড়া জরুরি প্রয়োজনে জাতীয় হেল্পলাইন ৯৯৯ সচল থাকবে।


আপনার মতামত লিখুন :