ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ, ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২
Daily Global News
রেকর্ড গড়া নির্বাচন

১১৯ প্রতীকের লড়াইয়ে ২০২৮ প্রার্থী, ভোট দিচ্ছে ১২ কোটি ভোটার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬, ০৮:১৪ এএম

১১৯ প্রতীকের লড়াইয়ে ২০২৮ প্রার্থী, ভোট দিচ্ছে ১২ কোটি ভোটার

বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে আজ এক নতুন অধ্যায় রচিত হচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলোর নিবন্ধন প্রক্রিয়া চালু হওয়ার পর এবারই সবচেয়ে বেশি দল ও প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে নেমেছেন প্রার্থীরা। বিএনপিসহ মোট ৫০টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল এবং স্বতন্ত্রসহ মোট ২০২৮ জন প্রার্থী আজকের ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

প্রতীক ও দলের মেলা নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তথ্য অনুযায়ী, এবার ধানের শীষ, দাঁড়িপাল্লা ও শাপলা কলিসহ মোট ১১৯টি নির্বাচনী প্রতীকে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন ভোটাররা। এর পাশাপাশি ‘জুলাই সনদ’ বা সংবিধান সংস্কার প্রস্তাবের ওপর ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোট দেওয়ার ঐতিহাসিক সুযোগ তো থাকছেই। ২০২৪ সালের বিতর্কিত দ্বাদশ নির্বাচনে মাত্র ২৮টি দল অংশ নিয়েছিল, যেখানে প্রতীকের সংখ্যা ছিল ৬৯। সেই তুলনায় এবার অংশগ্রহণকারী দল ও প্রতীকের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ।

মাঠের সমীকরণ বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে লড়ছেন ২৮৮ জন প্রার্থী। এছাড়া জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লায় ২২৪ জন, ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখায় ২৫৩ জন এবং জাতীয় পার্টির লাঙলে ১৯২ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নতুন দল হিসেবে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে ৩২ জন প্রার্থী মাঠে আছেন। উল্লেখ্য, গণহত্যার দায়ে আওয়ামী লীগের নিবন্ধন বর্তমানে স্থগিত থাকায় তারা এই নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না।

বাংলাদেশের ৫৪ বছরের নির্বাচনী মানচিত্র: স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ১২টি সংসদ নির্বাচনের ইতিহাস ও উল্লেখযোগ্য তথ্যগুলো পাঠকদের জন্য এক নজরে তুলে ধরা হলো: প্রথম সংসদ (১৯৭৩): বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ২৯৩ আসনে জয়ী হয়। ১১ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। দ্বিতীয় সংসদ (১৯৭৯): জিয়াউর রহমানের অধীনে বিএনপি ২০৭ আসন পেয়ে জয়লাভ করে। পঞ্চম সংসদ (১৯৯১): এরশাদের পতনের পর প্রথম অংশগ্রহণমূলক ভোট। বিএনপি ১৪০টি আসন পায়। সপ্তম সংসদ (১৯৯৬): তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে প্রথম ভোট। আওয়ামী লীগ ১৪৬ আসনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসে। অষ্টম সংসদ (২০০১): রেকর্ড ভোট (৭৫.৫৯%)। বিএনপি ১৯৩ আসন নিয়ে সরকার গঠন করে। নবম সংসদ (২০০৮): নিবন্ধন পদ্ধতি চালু হওয়ার পর প্রথম ভোট। ৮৭.১৩% ভোট পড়ে, যা ইতিহাসের সর্বোচ্চ। আওয়ামী লীগ ২৩০ আসন পায়। দশম-দ্বাদশ (২০১৪-২০২৪): বর্জন ও নানা বিতর্কের তিন নির্বাচন। ২০২৪ সালের নির্বাচনকে ‍‍`ডামি‍‍` নির্বাচন হিসেবে অভিহিত করা হয়, যা ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মুখে মাত্র ৬ মাস ৭ দিন স্থায়ী ছিল।

কেন এবারের নির্বাচন অনন্য? ১. সবচেয়ে বেশি দল ও প্রতীক: ১১৯টি প্রতীক বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। ২. গণভোটের ঐতিহাসিক সমন্বয়: একই দিনে সাধারণ নির্বাচন ও সংবিধান সংস্কারের জন্য গণভোট। ৩. প্রবাসীদের ভোটাধিকার: প্রথমবারের মতো ১০ কোটির বিশাল কর্মযজ্ঞে যুক্ত হয়েছেন প্রবাসীরা। ৪. আওয়ামী লীগ বিহীন নির্বাচন: গণহত্যার অভিযোগে প্রধান একটি দল ছাড়া এটিই প্রথম অংশগ্রহণমূলক সাধারণ নির্বাচন।

ডিজিএন/এনএস

banner
Link copied!