বাড্ডা “আওয়ামী লীগের আমলের ভোট তো ভোট ছিল না, ওসব ছিল প্রহসন। জীবনের দ্বিতীয় ভোটটা আজ শান্তিতে দিতে পারলাম। খুব ভালো লাগছে।” বাড্ডার বেরাইদ একেএম রহমত উল্লাহ কলেজ কেন্দ্রে ভোট দিয়ে বের হওয়ার সময় এভাবেই নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন রহিমা খাতুন (৪৬)। শুধু রহিমাই নন, এই কেন্দ্রের প্রতিটি ভোটারের চোখে-মুখে আজ দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ার তৃপ্তি।
নাহিদ ইসলামের ভোট প্রদান সকাল ৮টার দিকে নিজের কেন্দ্র একেএম রহমত উল্লাহ কলেজে ভোট দেন ১২ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। ভোট দিয়ে বের হয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “মানুষ আজ দখলদার ও ভূমিদস্যুদের হাত থেকে বাড্ডাকে মুক্ত করতে ভোট দিচ্ছে। উৎসবমুখর পরিবেশে মানুষ কেন্দ্রে আসছে, যা আগামীর বৈষম্যহীন বাংলাদেশেরই প্রতিফলন।”
নিরাপত্তার চাদরে কেন্দ্র সরেজমিনে দেখা গেছে, কুয়াশা ভেদ করে সকাল থেকেই পুরুষ ও নারী ভোটারদের দীর্ঘ লাইন কলেজ প্রাঙ্গণ ছাড়িয়ে রাস্তায় গিয়ে ঠেকেছে। কেন্দ্রটিতে র্যাব ও পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি ভোটারদের মাঝে আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে। জীবনের প্রথম ভোট দিতে আসা তরুণী রহিমা ইসাম বলেন, “ভোট নিয়ে একটা আতঙ্ক ছিল, কিন্তু কেন্দ্রে এসে দেখলাম পরিবেশ দারুণ। কোনো ঝামেলা ছাড়াই নিজের পছন্দের মানুষকে ভোট দিতে পেরেছি।”
ঢাকা-১১ আসনে এবার মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ড. এম এ কাইয়ুম (ধানের শীষ) এবং এনসিপির নাহিদ ইসলামের (শাপলা কলি) মধ্যে। এছাড়া জাতীয় পার্টির শামীম আহমেদসহ আরও বেশ কয়েকজন প্রার্থী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। প্রায় সাড়ে তিন লাখ ভোটারের এই আসনে জয়-পরাজয় নির্ধারণে তরুণ ও নারী ভোটারদের বড় ভূমিকা থাকবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


আপনার মতামত লিখুন :