দীর্ঘ দুই দশক পর অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক গণভোটে বড় জয় পেয়েছে সংস্কারের পক্ষ। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) চূড়ান্ত বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, গণভোটে অংশ নেওয়া ভোটারদের প্রায় ৬৮.০৬ শতাংশ নাগরিক সংস্কার প্রস্তাবের পক্ষে অর্থাৎ ‘হ্যাঁ’ বাক্সে ভোট দিয়েছেন। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রে সূচিত হতে যাচ্ছে এক নতুন অধ্যায়—সংসদ হতে যাচ্ছে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে এক ব্রিফিংয়ে ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ ফলাফল ঘোষণা করেন। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী: মোট ভোট পড়েছে: ৭ কোটি ৬ লাখ ৪০ হাজার ৫৬টি (৬০.০৪%)। ‘হ্যাঁ’ ভোট: ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৭টি (৬৮.০৬%)। ‘না’ ভোট: ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭টি (৩১.৯৪%)।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ার ফলে ‘জুলাই সনদ’ অনুযায়ী এখন থেকে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ হবে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক হারে (পিআর পদ্ধতি) ১০০ সদস্যের একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ভবিষ্যতে সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে নিম্নকক্ষের দুই-তৃতীয়াংশ এবং উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন বাধ্যতামূলক হবে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন এই রায়কে ‘জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, এই সংস্কারের মাধ্যমে ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত হবে এবং একক আধিপত্যের অবসান ঘটবে।


আপনার মতামত লিখুন :