ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ, ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২
Daily Global News

সংসদ নেই, স্পিকার নেই; নতুন সরকারের শপথ কে পড়াবেন?

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬, ০৫:২২ পিএম

সংসদ নেই, স্পিকার নেই; নতুন সরকারের শপথ কে পড়াবেন?

নির্বাচন কমিশনের বেসরকারি ফলাফলে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর এখন দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে কবে এবং কীভাবে গঠিত হবে নতুন সরকার? সংবিধান ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ এবং ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে পারে।

সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণার পর তা ‘সরকারি গেজেটে’ প্রকাশিত হতে হয়। প্রজ্ঞাপন জারির পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে নির্বাচিত সদস্যদের শপথ গ্রহণ বাধ্যতামূলক। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব জানিয়েছেন, ১৫ থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে গেজেট সম্পন্ন হলে ১৮ ফেব্রুয়ারির পর আর শপথের সময় যাবে না।

২৪-এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতিতে বর্তমানে সংসদে কোনো স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার নেই। এই জটিলতা এড়াতে সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদের আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে। আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, দুটি উপায়ে শপথ হতে পারে:
১. রাষ্ট্রপতি মনোনীত ব্যক্তি: রাষ্ট্রপতি শপথ পাঠ করানোর জন্য কাউকে মনোনীত করতে পারেন (যেমন: প্রধান বিচারপতি)। ২. প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি): যদি রাষ্ট্রপতির মনোনীত ব্যক্তি শপথ করাতে ব্যর্থ হন বা না করেন, তবে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে সিইসি এই দায়িত্ব পালন করবেন।

সরকার চায় যত দ্রুত সম্ভব ক্ষমতা হস্তান্তর করতে, তাই তিন দিন অপেক্ষা না করে রাষ্ট্রপতি মনোনীত কোনো ব্যক্তির মাধ্যমেই শপথ প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

শপথ গ্রহণের পর শুরু হবে মূল সরকার গঠনের প্রক্রিয়া। রাষ্ট্রপতি যে সংসদ সদস্যকে সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থাভাজন হিসেবে মনে করবেন (স্বাভাবিকভাবে বিজয়ীদের সংসদ নেতা), তাকেই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেবেন। প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যরা রাষ্ট্রপতির কাছে শপথ নেওয়ার মুহূর্ত থেকেই ‘স্বয়ংক্রিয়ভাবে’ রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষমতা লাভ করবেন। এর মাধ্যমেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের হাত থেকে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতার আনুষ্ঠানিক হস্তান্তর ঘটবে।

ডিজিএন/এনএস

banner
Link copied!