ঐতিহাসিক ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল সরকারিভাবে গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে ১২ হাজার ৭১৩ পৃষ্ঠার এই বিশাল গেজেট প্রকাশিত হয়। এর মাধ্যমে নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফল এখন পূর্ণাঙ্গ আইনি ভিত্তি পেল।
নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত এই গেজেটে ২৯৭টি আসনের বিজয়ী প্রার্থীদের নাম, তাঁদের পিতা/স্বামীর নাম, মাতার নাম এবং পূর্ণ ঠিকানা প্রকাশ করা হয়েছে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ৩৯(৪) অনুযায়ী এই তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। শেরপুর-৩ (প্রার্থীর মৃত্যু) এবং আইনি জটিলতায় স্থগিত থাকা চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসন বাদে বাকি সব আসনের নির্বাচিতদের তথ্য এখানে সন্নিবেশিত হয়েছে।
গেজেট প্রকাশের পর এখন সবার চোখ সংসদ ভবনের শপথ কক্ষের দিকে। সংবিধানের ১৪৮(২ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ নিতে হয়। তবে বর্তমানে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী অন্তরালে এবং ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু কারাগারে থাকায় কে শপথ পড়াবেন তা নিয়ে আইনি আলোচনা চলছে।
আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, এক্ষেত্রে দুটি বিকল্প রয়েছে:
১. রাষ্ট্রপতি মনোনীত ব্যক্তি: রাষ্ট্রপতি চাইলে প্রধান বিচারপতি বা অন্য কোনো যোগ্য ব্যক্তিকে শপথ পড়ানোর দায়িত্ব দিতে পারেন।
২. সিইসি: যদি রাষ্ট্রপতির মনোনীত ব্যক্তি শপথ করাতে না পারেন, তবে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন শপথ পাঠ করাবেন।
সংসদ সচিবালয় সূত্র জানিয়েছে, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানের জন্য সংসদ ভবন ধোয়া-মোছা ও সংস্কারের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। আগামী সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) শপথ অনুষ্ঠান হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। শপথের পরপরই সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হিসেবে তারেক রহমানকে সরকার গঠনের আহ্বান জানাবেন রাষ্ট্রপতি, যা নতুন সরকার গঠনের পথ সুগম করবে।


আপনার মতামত লিখুন :