দুই শতাধিক আসনে ভূমিধস জয়ের পর এখন রাষ্ট্র পরিচালনার ভার নিতে প্রস্তুত বিএনপি। আগামী মঙ্গলবার শপথ নিতে যাওয়া নতুন মন্ত্রিসভার আপ্যায়নে কোনো কমতি রাখছে না অন্তর্বর্তী সরকার ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো। হবু মন্ত্রীদের জন্য রাজধানীর অভিজাত এলাকাগুলোতে ৪০টি সরকারি বাসভবন এবং চলাচলের জন্য ৫০টি বিলাসবহুল গাড়ি পুরোপুরি প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর মিন্টো রোড, বেইলি রোড, গুলশান ও ধানমন্ডি এলাকায় মন্ত্রীদের জন্য বরাদ্দকৃত ৪০টি বাংলো ধোয়ামোছা ও সংস্কারের কাজ শেষ পর্যায়ে।
হাইজেনিক ওয়াশ, বাথরুম ফিটিংস পরিবর্তন এবং নতুন করে রং করার কাজ চলছে দ্রুতগতিতে। বিগত সরকারের মন্ত্রীরা বাড়িগুলো ছেড়ে দেওয়ার পর অনেকগুলো ফাঁকা ছিল, আবার কিছু বাড়িতে উপদেষ্টারা অবস্থান করছিলেন। এখন সেগুলো নতুন মন্ত্রীদের জন্য সাজানো হচ্ছে।
নতুন প্রধানমন্ত্রীর স্থায়ী নিবাস নিয়ে এখনো চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন না এলেও, রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’-কেই আপাতত ক্ষমতার প্রধান কেন্দ্র হিসেবে দেখা হচ্ছে। বর্তমান প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস যমুনা ছেড়ে দিলে সেটিই হবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাময়িক বা স্থায়ী আবাস। যদিও স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বাসভবন একীভূত করে নতুন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন তৈরির একটি প্রস্তাবনা ঝুলে আছে, তবে তারেক রহমানের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে তাঁর চূড়ান্ত ঠিকানা।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশে সরকারি যানবাহন অধিদপ্তর (পরিবহন পুল) ৫০টি গাড়ি প্রস্তুত রেখেছে। ভিভিআইপি প্রটোকল বজায় রাখতে ৫টি অতিরিক্ত গাড়ি ব্যাকআপ হিসেবে রাখা হয়েছে।
সরকারি যানবাহন অধিদপ্তরের কমিশনার মো. খায়রুল কবীর মেনন জানিয়েছেন, শপথের দিন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে চূড়ান্ত তালিকা পেলেই গাড়িগুলো বরাদ্দ দেওয়া হবে।
আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় সংসদ সদস্যদের এবং বিকেল ৪টায় একই স্থানে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হবে। প্রায় দুই যুগ পর তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির এই প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে শেরেবাংলা নগর এলাকায় বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ।


আপনার মতামত লিখুন :