দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের পর নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে উষ্ণ শুভেচ্ছা ও বিদায়ী কুশল বিনিময় করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়ী প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে এই ঐতিহাসিক দৃশ্য প্রত্যক্ষ করে দেশবাসী।
বিকেল ৪টা ১৩ মিনিটে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানকে শপথ বাক্য পাঠ করান। এরপর একে একে ২৫ জন পূর্ণ মন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী শপথ নেন। শপথ গ্রহণ শেষে ড. মুহাম্মদ ইউনূস মঞ্চে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে হাত মেলান এবং নতুন সরকারকে অভিনন্দন জানান। এ সময় দুই নেতার মুখে ছিল হাসোজ্জ্বল আভা, যা দেশের স্থিতিশীল রাজনৈতিক রূপান্তরের এক শক্তিশালী বার্তা দেয়।
বিদায়ী ফিরিস্তি ও ড. ইউনূসের ভাষ্য এর আগে সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া বিদায়ী ভাষণে ড. ইউনূস গত ১৮ মাসের সফলতার খতিয়ান তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন: বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ১৫ বিলিয়ন থেকে বাড়িয়ে ৩৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা হয়েছে। জাতীয় ঐক্য ও সংস্কারের ভিত্তি হিসেবে `জুলাই সনদ` ও গণভোটকে তাঁর সরকারের অন্যতম বড় সাফল্য হিসেবে বর্ণনা করেন। উৎসবমুখর পরিবেশে একটি আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের নির্বাচন উপহার দেওয়াকে তিনি দেশের মানুষের বিজয় বলে অভিহিত করেন।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর তারেক রহমান জাতির উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ২০ বছর পর বিএনপির এই প্রত্যাবর্তনকে তিনি `জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন` বলে মন্তব্য করেন।
শপথ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সংসদ ভবন এলাকায় ১৫ হাজার নিরাপত্তা সদস্যের কঠোর পাহারা থাকলেও মানিক মিয়া এভিনিউতে ছিল মানুষের ঢল। সহস্রাধিক দেশি-বিদেশি অতিথি এবং বিদেশি কূটনীতিকদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি এক কূটনৈতিক মিলনমেলায় পরিণত হয়।


আপনার মতামত লিখুন :