বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় রচিত হলো। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে উপজেলা চেয়ারম্যান, আর এখন সরাসরি সরকারের প্রতিমন্ত্রী। তৃণমূল থেকে উঠে আসা জননেতা মীর শাহে আলম আজ মঙ্গলবার বিকেলে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মীর শাহে আলম ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৩৩৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর চেয়ে তিনি ৫১ হাজার ৭০৯ ভোট বেশি পেয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বিশাল ব্যবধান কেবল দলীয় প্রতীকের নয়, বরং তাঁর দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তারই প্রতিফলন।
তৃণমূল থেকে জাতীয় রাজনীতি: মীর শাহে আলমের রাজনৈতিক পথচলা ছিল চড়াই-উতরাইয়ে পূর্ণ, যা তাঁকে প্রকৃত অর্থেই ‘মাটির নেতা’ হিসেবে গড়ে তুলেছে, মাত্র ২৩ বছর বয়সে ১৯৯৭ সালে আটমূল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে চমক দেখান। ২০০৯ সালে শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে এলাকার অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখেন। তখন থেকেই তিনি সাধারণ মানুষের কাছে ‘চেয়ারম্যান ভাই’ হিসেবে পরিচিতি পান। দীর্ঘ ১৭ বছরের রাজনৈতিক প্রতিকূলতায় বহুবার জেল-জুলুম ও মামলার শিকার হলেও মাঠ ছাড়েননি তিনি।
বগুড়া-২ আসনের ইতিহাসে তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি সরাসরি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেলেন। শপথের পর প্রতিক্রিয়ায় তিনি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, “আমি আগে আটমূলের চেয়ারম্যান ছিলাম, পরে উপজেলার। আজ আপনারা আমাকে সংসদে পাঠিয়েছেন। আমি যেন আজীবন আপনাদের সেই ‘চেয়ারম্যান ভাই’ হয়েই সেবা করতে পারি।”
প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তাঁর কাছ থেকে শিবগঞ্জবাসী এখন বড় কিছু আশা করছে। বিশেষ করে: উত্তরাঞ্চলের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির আধুনিকায়ন। এলাকায় কল-কারখানা ও তরুণদের জন্য কাজের সুযোগ সৃষ্টি। ঐতিহাসিক মহাস্থানগড়কে পর্যটন নগরী হিসেবে বিশ্বদরবারে তুলে ধরা।


আপনার মতামত লিখুন :