সাড়ে ১৫ বছরের শাসনের পতনের পর আইনি প্রক্রিয়ায় নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও দেশের বিভিন্ন জেলায় আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়গুলোর তালা খুলতে শুরু করেছে। নির্বাচনের পরপরই গত কয়েক দিনে পঞ্চগড়, বরগুনা, পটুয়াখালী, খুলনা ও নারায়ণগঞ্জসহ বেশ কিছু এলাকায় নেতা-কর্মীদের ঝাড়ু হাতে কার্যালয় পরিষ্কার করতে এবং স্লোগান দিতে দেখা গেছে। তবে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে যে, এই কার্যালয়গুলো খোলার পেছনে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের প্রচ্ছন্ন সহযোগিতা রয়েছে।
১৩ ফেব্রুয়ারি সদর উপজেলার চাকলাহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ কার্যালয় প্রথম খোলা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সেখানে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু দাউদ প্রধান। যদিও কিছুক্ষণ পর কার্যালয়টি আবার বন্ধ করে দেওয়া হয়।
১৬ ফেব্রুয়ারি বরগুনার বেতাগী ও পটুয়াখালীর দশমিনায় কার্যালয় খোলার পর নেতা-কর্মীরা স্লোগান দেন। খুলনায় কার্যালয় খুলে কিছুক্ষণ অবস্থান করেন তাঁরা।
১৭ ও ১৮ ফেব্রুয়ারি চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, শরীয়তপুর ও নোয়াখালীতেও একই চিত্র দেখা গেছে।
এই ঘটনাকে জুলাই আন্দোলনের চেতনার পরিপন্থী ও একটি ‘অশনিসংকেত’ হিসেবে দেখছেন এনসিপি নেতারা। দলটির খুলনা মহানগরের প্রধান সংগঠক আহম্মদ হামীম রাহাত ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “যে ছাত্ররা ফ্যাসিবাদ তাড়াতে জীবন দিল, তাদের মনে আজ আতঙ্ক বিরাজ করছে। প্রশ্ন জাগছে, নতুন সরকার গঠন হওয়ার পর তাদের (আওয়ামী লীগ) কি পুনরুজ্জীবিত হতে সাহায্য করা হচ্ছে?”
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আইনিভাবে নিষিদ্ধ কোনো দলের কার্যক্রম শুরু হওয়া উচিত আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই। সুজনের নারায়ণগঞ্জ জেলা সহসভাপতি এম আর হায়দার রানা বলেন, “ক্ষমতাসীন দল বা তাদের সাথে থাকা কেউ যদি এদের সহযোগিতা করে থাকে, তবে তা কাম্য নয়।”
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. শামসুল আলম মনে করেন, জাতীয় রাজনীতিতে আদর্শগত পরিবর্তনের যে লক্ষ্য নিয়ে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান হয়েছিল, তা যেন কোনো রাজনৈতিক সমঝোতার বলি না হয়। তিনি বলেন, সুস্থ রাজনীতির চর্চা করতে না পারলে অন্য শক্তিগুলো পুনর্বাসিত হওয়ার সুযোগ পাবে।


আপনার মতামত লিখুন :