আজ ২১ ফেব্রুয়ারি, মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি’ গানের সুর মূর্ছনায় ভোর থেকেই শুরু হয়েছে প্রভাতফেরি। বাঙালির আত্মপরিচয় রক্ষার সেই লড়াই আজ ৭৪ বছর পূর্ণ করল।
১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর থেকেই বাংলার মানুষের মুখের ভাষাকে কেড়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র শুরু হয়। ১৯৪৮-এ শুরু হওয়া সেই বিক্ষোভ চূড়ান্ত রূপ নেয় ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি। সেদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের ওপর পুলিশের গুলিতে শহীদ হন সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ অনেকে।
২৩ ফেব্রুয়ারি রাতেই নির্মিত হয় প্রথম শহীদ মিনার, যা ২৬ ফেব্রুয়ারি গুড়িয়ে দেয় তৎকালীন সরকার। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর ১৯৫৬ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি বাংলা পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি পায়। আর ১৯৮৭ সালে পাস হয় ‘বাংলা ভাষা প্রচলন বিল’।
কানাডা প্রবাসী দুই বাঙালি রফিকুল ইসলাম ও আব্দুস সালামের উদ্যোগে এবং তৎকালীন বাংলাদেশ সরকারের প্রচেষ্টায় ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে। ২০১০ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশ প্রস্তাব উত্থাপন করলে এটি বিশ্বজুড়ে প্রতিবছর পালনের সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতভাবে পাস হয়। আজ বিশ্বের ১৯৩টি দেশে পালিত হচ্ছে আমাদের এই গর্বের দিনটি।
আজকের কর্মসূচি: আজ সারা দেশে সরকারি ছুটি। সকল প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর আজ সকাল থেকেই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মানুষের ঢল নেমেছে। নারী-পুরুষ, শিশু থেকে বৃদ্ধ সবাই হাতে ফুল আর কালো ব্যাজ ধারণ করে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।
কেবল দিবস উদযাপন নয়, বরং সর্বস্তরে বাংলার সঠিক ব্যবহার এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের ভাষা সংরক্ষণের শপথ নিচ্ছে জাতি।


আপনার মতামত লিখুন :