ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ, ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২
Daily Global News

‘৪০ লাখ টাকার ক্রিপ্টোকারেন্সি’ নিয়ে ভারত যান বৈষম্যবিরোধী নেতা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬, ০৩:২১ পিএম

‘৪০ লাখ টাকার ক্রিপ্টোকারেন্সি’ নিয়ে ভারত যান বৈষম্যবিরোধী নেতা

বাংলাদেশের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মাহদী হাসানকে ঘিরে দিল্লিতে ঘটে যাওয়া নাটকীয় ঘটনাপ্রবাহে এবার নতুন করে আলোচনায় এসেছে ক্রিপ্টোকারেন্সি বা ডিজিটাল মুদ্রা। ভারতের রাজধানীতে অবস্থানকালে তাঁর কাছে বিপুল পরিমাণ ক্রিপ্টোকারেন্সি থাকার অভিযোগেই মূলত নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর তৎপরতা বৃদ্ধি পায় বলে একাধিক আন্তর্জাতিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

গত মঙ্গলবার দিল্লির কনট প্লেসে পর্তুগালের ভিসার জন্য আবেদন করতে গিয়ে জনসমক্ষে চলে আসেন মাহদী হাসান। সেখানে তাঁকে শনাক্ত করে ভিডিও ধারণ করা হলে বিষয়টি দ্রুত ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর নজরে আসে। সূত্রমতে, হাসান দিল্লিতে আসার সময় ভবিষ্যৎ খরচের জন্য প্রায় ৪০ লক্ষাধিক বাংলাদেশি টাকার সমপরিমাণ ক্রিপ্টোকারেন্সি সঙ্গে এনেছিলেন।

মঙ্গলবার সকাল থেকেই মাহদী হাসানের কাছে ভারত ও বাংলাদেশের একাধিক অজানা নম্বর থেকে ফোন আসতে শুরু করে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তিনি পাহাড়গঞ্জের হোটেল ছেড়ে বিমানবন্দরের কাছে নতুন হোটেলে আশ্রয় নেন। একটি সূত্র জানায়, ওই সময়েই তিনি আন্দাজ করেন যে কোনো বড় বিপত্তি ঘটতে যাচ্ছে। রাতেই তাঁর জন্য দিল্লি-ঢাকা ইন্ডিগো ফ্লাইটের টিকিট পৌঁছে দেওয়া হয়।

ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর কাছে তিনটি বিষয় সবথেকে বেশি গুরুত্ব পায়:
১. ভারতবিরোধী আপত্তিকর বক্তব্য।
২. একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যার প্রকাশ্য দাবি।
৩. ধর্মীয় পরিচয় উল্লেখ করে উস্কানিমূলক মন্তব্য।

নিরাপত্তা বাহিনীর একটি সূত্র জানায়, “একজন সন্দেহভাজন ক্রিমিনাল দিল্লিতে আসবে এবং এখান থেকে অন্য দেশে চলে যাবে, আর আমরা চুপ করে বসে থাকব তা হয় না। বিশেষ করে একজন হিন্দু অফিসারকে মারার দাবিটি গুরুত্বের সাথে নেওয়া হয়েছে।”

বুধবার সকালে দিল্লি বিমানবন্দরে মাহদী হাসানকে নিরাপত্তা চেকিং লাইন থেকে সরিয়ে প্রায় আধঘণ্টা জেরা করা হয়। তবে তাঁর ওপর শারীরিক নিগ্রহের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশে ফিরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মাহদী হাসান অভিযোগ করেন, তাঁকে বৈষম্যবিরোধী নেতা হিসেবে প্রচণ্ড হ্যারাস (হয়রানি) করা হয়েছে এবং তিনি জীবনের ঝুঁকিতে ছিলেন।

তবে ক্রিপ্টোকারেন্সি বহনের অভিযোগ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি সরাসরি তা অস্বীকার করে একে ‘গুজব’ বলে উড়িয়ে দেন।

দিল্লিতে ক্রিপ্টোকারেন্সি বহনের অভিযোগ, গোয়েন্দা নজরদারি এবং বিমানবন্দরে জেরা সব মিলিয়ে মাহদী হাসানকে ঘিরে ধোঁয়াশা এখনো কাটেনি।

ডিজিএন/এফএ

banner
Link copied!