আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়াকে একটি ‘স্বাভাবিক প্রক্রিয়া’ হিসেবে দেখছেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) পদ খোয়ানোর পর ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এলে রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিজেদের পছন্দনীয় ব্যক্তিদের নিয়োগ দেবেন এটাই নিয়ম।
বিদায়বেলায় তাজুল ইসলাম তাঁর উত্তরসূরি অ্যাডভোকেট মো. আমিনুল ইসলামকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, “নতুন চিফ প্রসিকিউটরকে আমি স্বাগতম জানাই। আশা করি, তিনি জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলন এবং গত ১৫ বছরের গুম-খুনের বিচার প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন করবেন।”
২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দায়িত্ব নেওয়া তাজুল ইসলাম গত দেড় বছরের অভিজ্ঞতাকে ‘অম্লমধুর’ বলে বর্ণনা করেন।
তিনি বলেন, “আমি যখন দায়িত্ব নিই, তখন ট্রাইব্যুনাল ভবনটি পরিত্যক্ত ছিল, নথিপত্র বৃষ্টিতে ভিজছিল। সেই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি থেকে আমরা তদন্ত শুরু করি, হাসপাতালে হাসপাতালে গিয়ে আহতদের আলামত সংগ্রহ করি। ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠনে মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার ও ছাত্রদের সহযোগিতা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।”
নিজ থেকে কেন পদত্যাগ করেননি এমন প্রশ্নে তাজুল বলেন, “সরকারের পক্ষ থেকে আমাকে গতকাল ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল যে তারা নতুন কাউকে চাচ্ছে। আমি পদত্যাগ করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু সরকার চেয়েছে এটি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় রিপ্লেসমেন্ট হোক। পদত্যাগ করলে ভিন্ন বার্তা যেতে পারত।”
জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার ও প্রমাণাদি উপস্থাপন নিয়ে শতভাগ আত্মবিশ্বাসী তাজুল ইসলাম। তিনি দাবি করেন, “আমরা যে ধরনের শক্তিশালী তথ্য-প্রমাণ ট্রাইব্যুনালে পেশ করেছি, অতীতের কোনো প্রসিকিউশন তা পারেনি। এই রায় উচ্চ আদালতে উল্টে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।”
চাকরি বা পদের মোহ নেই জানিয়ে তাজুল ইসলাম বলেন, “আমার মূল পরিচয় আমি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী। আমি আমার স্বাভাবিক কর্মজীবন অর্থাৎ আইন পেশায় ফিরে যাচ্ছি। আপাতত নতুন কোনো পদে যাওয়ার পরিকল্পনা নেই।”


আপনার মতামত লিখুন :