ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ, ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২
Daily Global News

ছয় সিটিতে বিএনপি নেতাদের প্রশাসক নিয়োগ: সিটি নির্বাচন কি তবে অনিশ্চিত?

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬, ১১:১৯ এএম

ছয় সিটিতে বিএনপি নেতাদের প্রশাসক নিয়োগ: সিটি নির্বাচন কি তবে অনিশ্চিত?

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সরগরম হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক অঙ্গন। ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ ও চট্টগ্রামসহ তিনটি সিটি করপোরেশনে নির্বাচন আয়োজনের জন্য ইসিকে চিঠি দিয়েছে মন্ত্রণালয়। তবে এরই মধ্যে ঢাকার দুই সিটিসহ দেশের ছয়টি সিটি করপোরেশনে বিএনপি নেতাদের ‘পূর্ণকালীন প্রশাসক’ হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় নির্বাচনের সময়সীমা নিয়ে জনমনে নতুন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

গত মঙ্গলবার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে গিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন ছয় নতুন প্রশাসক। ঢাকা দক্ষিণে দায়িত্ব নিয়েছেন আবদুস সালাম এবং উত্তরে মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। এছাড়া খুলনায় নজরুল ইসলাম মঞ্জু, সিলেটে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, নারায়ণগঞ্জে মো. সাখাওয়াত হোসেন খান এবং গাজীপুরে মো. শওকত হোসেন সরকারকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

দায়িত্ব নিয়ে আবদুস সালাম বলেন, "কাজের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করে তারপর আমরা নির্বাচনে যাবো।"

নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম জানিয়েছেন, নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে চিঠি পেলেও কিছু আইনি বিষয় ও সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষ করে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হবে কি না, তা সংসদ থেকে নির্ধারিত হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, "মেয়াদ অনুযায়ী ধাপে ধাপে সিটি করপোরেশন নির্বাচন হবে এবং ঢাকা ও চট্টগ্রামকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।"

বিএনপি নেতাদের প্রশাসক নিয়োগের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে সংসদের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার একে ‘নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র’ বলে অভিহিত করেছেন।

অন্যদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ মনে করছেন, নাগরিক ভোগান্তি কমাতে প্রশাসক নয়, দ্রুত নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি প্রয়োজন। দ্রুত নির্বাচনের উদ্যোগ না নিলে জামায়াত ও এনসিপি আন্দোলনে নামারও ইঙ্গিত দিয়েছে।

স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ বদিউল আলম মজুমদার ও সাবেক সচিব আবু আলম শহীদ খান মনে করেন, শুধু মেয়র পদে প্রশাসক বসিয়ে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়, কারণ কাউন্সিলর পদগুলোও শূন্য। আইনের বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন না হলে এই প্রশাসনিক সংকট আরও গভীর হতে পারে।

সূত্র: বিবিসি।

ডিজিএন/এনএস

banner
Link copied!