পঞ্চগড়ের বিরাজোত সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে এক প্রবীণ বাংলাদেশি আটকের জেরে বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশকারী এক ভারতীয় যুবককে ধরে আটকে রাখে বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী। প্রবীণ ওই বাংলাদেশিকে মুক্তি না দেওয়া পর্যন্ত ভারতীয় যুবককে ছাড়া হবে না বলে শর্ত জুড়ে দেন তারা। পরে খবর পেয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং ভারতীয় ওই নাগরিককে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে কারাগারে পাঠায়।
জানা যায়, গত ৫ আগস্ট সকালে বিরাজোত গ্রামের ৮০ বছর বয়সী তমিজ উদ্দিন ভুলবশত সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে চলে যাওয়া নিজের গরু আনতে যান। এ সময় বিএসএফ তাকে আটক করে এবং পরবর্তীতে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। বয়োবৃদ্ধ বাবাকে নির্দোষ দাবি করে তার মুক্তির আকুতি জানাচ্ছিলেন পরিবারের সদস্যরা।
এই ঘটনার তিন দিন পর শনিবার সকালে পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলার কুকুরজান গ্রামের বাসিন্দা দীপঙ্কর গোপ বাংলাদেশ সীমান্তে প্রবেশ করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীপঙ্কর বাংলাদেশের সীমানায় ঢুকে এক কৃষকের খেত থেকে আখ চুরি করছিলেন। এ সময় এলাকাবাসী তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলে এবং তমিজ উদ্দিনকে ফেরত দেওয়ার দাবিতে তাকে আটকে রাখে।
উদ্ভূত পরিস্থিতি সমাধানে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে কয়েক দফায় পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু বিএসএফের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তমিজ উদ্দিনকে ইতোমধ্যে ভারতীয় পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে বিজিবিও গত রোববার সন্ধ্যায় ভারতীয় ওই নাগরিককে পঞ্চগড় জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আবু সাইম জানান, অবৈধ অনুপ্রবেশের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সোমবার দীপঙ্কর গোপকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পাল্টাপাল্টি এই আটকের ঘটনায় উভয় দেশেই আইনি প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় এই দুই নাগরিক কবে নাগাদ নিজ নিজ দেশে ফিরতে পারবেন, তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। সূত্র: বিবিসি


আপনার মতামত লিখুন :