ঢাকা রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩
Daily Global News

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পথও কি রুদ্ধ হচ্ছে আওয়ামী লীগের?

ডিজিএন ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ১৮, ২০২৬, ০৮:৫৯ পিএম

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পথও কি রুদ্ধ হচ্ছে আওয়ামী লীগের?

প্রায় দুই বছর ধরে দেশের রাজনীতি থেকে অনেকটা উধাও দোর্দণ্ড প্রতাপের সঙ্গে সাড়ে ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা দল আওয়ামী লীগ। দলটির সভাপতিসহ শীর্ষ নেতাদের বেশির ভাগই পলাতক এবং একটি বড় অংশ কারাগারে বন্দি রয়েছেন। লাখ লাখ নেতাকর্মী বর্তমানে ছন্নছাড়া অবস্থায় দিন যাপন করছেন।

দলীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় গত ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনেও তারা অংশ নিতে পারেনি। তবে দরজায় কড়া নাড়ছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, যা এবার দলীয় প্রতীকে হচ্ছে না। আর এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে ধীরে ধীরে রাজনীতিতে ফেরার ছক কষছেন দলটির অনেক নেতা।

আওয়ামী লীগের এই প্রত্যাবর্তনের পথে সবচেয়ে বড় কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) লিখিত আবেদন জমা দিয়ে দাবি জানিয়েছে, আওয়ামী লীগের কেউ যেন কোনোভাবেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে না পারে।

জামায়াতের আইনি যুক্তি হলো, নিবন্ধন স্থগিত থাকা অবস্থায় কোনো দলকে বা তাদের নেতাদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া বিদ্যমান আইনের সঙ্গে পুরোপুরি সাংঘর্ষিক। তাদের মতে, জাতীয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে যে নীতি অনুসরণ করা হয়েছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও হুবহু একই নীতি বজায় রাখা উচিত এবং সব রাজনৈতিক দলের ক্ষেত্রে আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করাই ইসির মূল দায়িত্ব।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত করা হয়, ফলে দলটি বর্তমানে ইসির নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের তালিকায় নেই।

নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের মতে, নিবন্ধন পুনর্বহাল না হলে দলীয় প্রতীকে কোনো নির্বাচনে অংশ নেওয়া অসম্ভব। যেহেতু সরকার স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচন নির্দলীয়ভাবে আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তাই আওয়ামী লীগের সমর্থিত বা সাবেক নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন বলে বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন। ইতোমধ্যে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির পক্ষ থেকেও এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

তবে নির্বাচন কমিশন যদি জামায়াতের আবেদনের আলোকে বিদ্যমান আইনি অবস্থান কঠোরভাবে বহাল রাখে, তবে আওয়ামী লীগের জন্য স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পথও কার্যত চিরতরে বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

জামায়াতের এই আবেদন, বিদ্যমান আইন এবং আদালতের নির্দেশনার আলোকে নির্বাচন কমিশন শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেয়, তার ওপরই নির্ভর করছে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ভাগ্য।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত আচরণবিধিমালার ওপর বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল, প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি ও সংগঠনের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের সুপারিশ পাওয়া গেছে।

ইসির কর্মকর্তারা বর্তমানে এসব সুপারিশ যাচাই-বাছাই করছেন। আগামী মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে এই সুপারিশগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা হবে এবং এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

ডিজিএন/এনএস

banner
Link copied!