ঢাকা সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩
Daily Global News

তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকারের ছয় মাস: প্রাপ্তি ও চ্যালেঞ্জের খতিয়ান

ডিজিএন ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ১৭, ২০২৬, ০৬:৪৪ পিএম

তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকারের ছয় মাস: প্রাপ্তি ও চ্যালেঞ্জের খতিয়ান

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের দেড় বছর পর ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হয়েছে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এই তিন প্রধান অগ্রাধিকার নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও গত ১৮০ দিনে সরকারের অর্জন ও ব্যর্থতা নিয়ে জনমনে এবং বিশ্লেষকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।

সরকারের দাবি, তাদের প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রার প্রায় পুরোটাই অর্জিত হয়েছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কিছু ক্ষেত্রে সরকারের ইতিবাচক পদক্ষেপ থাকলেও দেশের বেশ কিছু মূল সংকট এখনও রয়েই গেছে।

অর্থনীতি ও জনকল্যাণমূলক কাজের ক্ষেত্রে সরকারের বেশ কিছু উদ্যোগ সাধারণ মানুষের কাছে প্রশংসিত হয়েছে। এর মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলো উল্লেখযোগ্য।

এছাড়া মন্ত্রী-এমপিদের শুল্কমুক্ত গাড়ি না নেওয়ার সিদ্ধান্ত, ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে পাঁচটি দুর্বল ব্যাংক একীভূত করার উদ্যোগ এবং বন্ধ কারখানা চালুর জন্য বিশেষ তহবিল গঠন অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে এর বিপরীতে দ্রব্যমূল্য ও মূল্যস্ফীতি এখনও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে রয়ে গেছে। আর্থিক নীতি ও বাজার ব্যবস্থাপনায় যথাযথ সমন্বয়ের অভাবে জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এখনো সম্ভব হয়নি।

অন্যদিকে, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মানবাধিকার সংস্থাগুলো গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। গত ছয় মাসে রাজনৈতিক সংঘাত উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে বলে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) এবং এইচআরএসএস-এর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

এই সময়ে মব ভায়োলেন্স বা গণপিটুনিতে অন্তত ১২০ জনের মৃত্যু, বিচারবহির্ভূত হত্যা, কারাগারে মৃত্যু এবং নারী নির্যাতনের মতো ঘটনাগুলো উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি ক্যাম্পাসগুলোতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে চলমান সংঘাত দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির নাজুক অবস্থাই তুলে ধরে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত গত ছয় মাসে সরকারকে সবচেয়ে বেশি ভুগিয়েছে। দেশজুড়ে তীব্র লোডশেডিং এবং বিশেষ করে জুন মাসে গ্রাহকদের অস্বাভাবিক বা ‍‍`ভুতুড়ে‍‍` বিদ্যুৎ বিল জনমনে চরম অসন্তোষ তৈরি করেছে।

আন্তর্জাতিক অস্থিরতার প্রভাব এবং এলএনজি টার্মিনাল বিকল থাকায় গ্যাস সংকট আরও তীব্র রূপ নিয়েছে, যার জেরে বিরোধী দলগুলো ইতোমধ্যে রাজপথে প্রতিবাদী কর্মসূচি পালন শুরু করেছে।

তবে অভ্যন্তরীণ নানা চ্যালেঞ্জের মাঝেও সরকারের অন্যতম বড় সাফল্য এসেছে কূটনৈতিক অঙ্গনে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়াকে বড় একটি কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরে শ্রমবাজার পুনরায় চালু হওয়ার ইঙ্গিত এবং চীন সফরে অর্থনৈতিক করিডোরসহ ১৭টি সমঝোতা স্মারক সই হওয়া দেশের জন্য একটি বড় অর্জন।

তবে ভারতের সাথে সম্পর্কের টানাপোড়েন এখনও অব্যাহত রয়েছে। গত ৫ আগস্ট দিল্লিতে শেখ হাসিনার প্রকাশ্য সংবাদ সম্মেলনের পর ‍‍`পরিবেশ অনুকূল নয়‍‍` জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর পূর্বনির্ধারিত ভারত সফর বাতিল করেছে ঢাকা, যা দুই দেশের সম্পর্কের বর্তমান অবস্থাকেই স্পষ্ট করে।

রাজনৈতিক সংস্কার ও সুশাসনের ক্ষেত্রে সরকারের প্রতি সাধারণ মানুষের যে প্রত্যাশা ছিল, তা পূরণে বেশ ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র সংস্কারের দাবিতে তৈরি হওয়া ‍‍`জুলাই সনদ‍‍` বাস্তবায়নে হওয়া গণভোটের রায়কে (যেখানে ‍‍`হ্যাঁ‍‍` জয়ী হয়েছিল) সরকার অবৈধ আখ্যা দেওয়ায় নতুন করে রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে।

স্বাধীন বিচার বিভাগ, গুম কমিশন গঠন, দুর্নীতি দমন ও পুলিশ সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে গত ছয় মাসে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় বিরোধী দল জামায়াত-এনসিপি জোট ইতোমধ্যে মাঠের আন্দোলনে নামার ঘোষণা দিয়েছে।

ডিজিএন/এনএস

banner
Link copied!