ঢাকা সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩
Daily Global News

শূন্য থেকে শিখরে: রাজকীয় বিমানবাহিনীতে বাংলাদেশের সোহান

প্রবাস ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ৬, ২০২৬, ০৭:২৬ পিএম

শূন্য থেকে শিখরে: রাজকীয় বিমানবাহিনীতে বাংলাদেশের সোহান

মাত্র ১৩ বছর বয়সে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-মাকে হারিয়েছিলেন নাজমুস সোহান। তবে জীবনের এই চরম বিপর্যয়ে থমকে না গিয়ে অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে তিনি আজ পৌঁছে গেছেন সফলতার অনন্য উচ্চতায়।

প্রথাগত সামরিক বা উড্ডয়ন শিক্ষা ছাড়াই কেবল মেধা ও দীর্ঘ প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তিনি এখন অস্ট্রেলিয়ার রাজকীয় বিমানবাহিনীর (আরএএএফ) ‘ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট’।

সুদূর প্রবাসে মেধা ও কঠোর শৃঙ্খলার প্রমাণ দিয়ে মাত্র তিন বছরের মধ্যেই গত ২ জুন (২০২৬) তিনি এই মর্যাদাপূর্ণ পদে পদোন্নতি লাভ করেন। বর্তমানে তিনি অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেডের এডিনবরা বিমানঘাঁটিতে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটের দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছেন।

সোহানের এই সামরিক জীবনের যাত্রা মোটেও সহজ ছিল না। ২০২৩ সালে ব্যবসায়িক সাফল্যের চূড়ায় থাকা অবস্থায় তিনি সাহসিকতার সঙ্গে বিমানবাহিনীতে ‘ফ্লাইং অফিসার’ হিসেবে সরাসরি যোগ দেন।

যোগদানের পর অস্ট্রেলিয়ার উত্তর কুইন্সল্যান্ডের গহিন ও জনমানবহীন অরণ্যে তাকে চরম বৈরী আবহাওয়া ও বন্য প্রাণীর ভয়ের মাঝে সম্পূর্ণ একা থেকে ‘কমব্যাট সারভাইভাল’ বা যুদ্ধকালীন বেঁচে থাকার কঠিন প্রশিক্ষণ সফলভাবে পার করতে হয়।

নিজের এই অভাবনীয় অর্জন নিয়ে সোহান জানান, তার জানামতে এই সম্মানজনক কমিশনড অফিসার পদে একজন ইমাম ছাড়া আর কোনো বাংলাদেশি নেই। তবে তাকে দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে এখন অনেক বাংলাদেশি তরুণ বাহিনীটিতে যোগ দিচ্ছেন এবং তিনিও তাদের যথাযথ তথ্য দিয়ে পথ দেখাচ্ছেন।

সোহানের পৈতৃক নিবাস সাতক্ষীরার তালা থানায় হলেও তার বেড়ে ওঠা খুলনার ডুমুরিয়ায়। ২০১৩ সালে ঢাকার ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে ভর্তির পর ২০১৫ সালে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি নিয়ে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমান এবং মেলবোর্নের মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা শুরু করেন।

পড়াশোনার পাশাপাশি বড় ভাইয়ের অনুপ্রেরণায় নিজ উদ্যোগে তিনি ভাষা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও প্রশিক্ষণ কলেজ গড়ে তুলে ব্যাপক ব্যবসায়িক সাফল্য অর্জন করেন।

২০১৬ সালে সুরাইয়া মান্নানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া সোহান বর্তমানে স্ত্রী ও কন্যাসন্তান ‘সিজদা’কে নিয়ে সুখের সংসার গড়েছেন। প্রবাসে কঠোর সামরিক শৃঙ্খলায় জীবন কাটালেও শেকড়কে ভুলে যাননি তিনি।

প্রচারের আড়ালে থেকে নিজ এলাকার অসহায় মানুষের জন্য ঘর ও মসজিদ নির্মাণ, শীতবস্ত্র বিতরণ এবং অসুস্থদের চিকিৎসাসহ নানা সমাজকল্যাণমূলক কাজ নীরবে চালিয়ে যাচ্ছেন এই অদম্য তরুণ।

ডিজিএন/এনএস

banner
Link copied!