ঢাকা শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
Daily Global News

জ্বালানি সংকটে মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ হওয়ার শঙ্কা

ডিজিএন ডেস্ক

প্রকাশিত: এপ্রিল ২২, ২০২৬, ১২:১৮ পিএম

জ্বালানি সংকটে মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ হওয়ার শঙ্কা

হরমুজ প্রণালি বন্ধের জেরে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের আঁচ এখন বাংলাদেশের মোবাইল নেটওয়ার্কের ওপর। দেশজুড়ে তীব্র লোডশেডিং এবং জেনারেটর চালানোর মতো পর্যাপ্ত ডিজেল-অকটেন না থাকায় মোবাইল টাওয়ার ও ডেটা সেন্টারগুলো সচল রাখা অসম্ভব হয়ে পড়ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়ে বিটিআরসিকে চিঠি দিয়েছে মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন অ্যামটব। অপারেটররা সতর্ক করে বলেছে, নেটওয়ার্কের ‘মস্তিষ্ক’ হিসেবে পরিচিত ডেটা সেন্টারগুলো বন্ধ হলে পুরো দেশ এক গভীর যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতায় ডুবে যেতে পারে।

মোবাইল নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভরশীল কয়েক লাখ ক্ষুদ্র অনলাইন উদ্যোক্তা এবং রাইড শেয়ারিং চালকরা এখন চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। জামালপুরের পোশাক ব্যবসায়ী কাকলী আক্তার বলেন, “অনলাইনে ব্যবসা করেই সংসার চালাই। নেটওয়ার্ক না থাকলে চলা টাফ হয়ে যাবে।”

অন্যদিকে মিরপুরের রাইড শেয়ারিং চালক শাহ আলম ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, সাড়ে দশ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে বাইকের তেল পেলেও এখন যদি নেটওয়ার্ক না থাকে, তবে পরিবার নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে।

অ্যামটবের তথ্য অনুযায়ী, গ্রামীণফোন, রবি ও বাংলালিংকের নেটওয়ার্ক সচল রাখতে প্রতিদিন প্রায় ৭৯ হাজার ৬২১ লিটার ডিজেল এবং ১৯ হাজার ৮৫৯ লিটার অকটেনের প্রয়োজন। লোডশেডিংয়ের কারণে টাওয়ারগুলো ঘণ্টার পর ঘণ্টা জেনারেটরে চালাতে হচ্ছে। একেকটি ডেটা সেন্টারে ঘণ্টায় ৫০০ থেকে ৬০০ লিটার ডিজেল লাগে, যা স্থানীয় পাম্পগুলো থেকে সরবরাহ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অ্যামটবের মহাসচিব লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ জুলফিকার (অব:) জানিয়েছেন, ব্যাকআপ দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া এখন কঠিন হয়ে পড়েছে। নেটওয়ার্ক বন্ধ হলে জরুরি সেবা, ব্যাংকিং ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়বে। তবে বিটিআরসির ভাইস-চেয়ারম্যান মো. আবু বকর ছিদ্দিক আশ্বস্ত করেছেন যে, বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে এবং জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্বয় করে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে। সূত্র: বিবিসি

ডিজিএন/এনএস

banner
Link copied!