চুয়াডাঙ্গা জেলায় ‘সাদা সোনা’ খ্যাত তুলা চাষের পরিধি বাড়াতে এবং কৃষকদের আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদে উদ্বুদ্ধ করতে এক বিশাল কৃষক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুরে দামুড়হুদা উপজেলার গোপালপুর গ্রামের ব্লকে তুলা উন্নয়ন বোর্ডের আয়োজনে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
চুয়াডাঙ্গা জেলা তুলা চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী হওয়ায় এখানে চাষাবাদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সমাবেশে স্থানীয় প্রায় ১২০ জন অভিজ্ঞ ও নতুন তুলা চাষি অংশগ্রহণ করেন।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার বলেন, “চুয়াডাঙ্গার মাটি তুলা চাষের জন্য সোনা। ধান বা অন্য ফসলের তুলনায় তুলার বাজারমূল্য এবং চাহিদা দুটোই স্থিতিশীল। আমরা চাই কৃষকরা যেন সনাতন পদ্ধতির বাইরে এসে বৈজ্ঞানিক উপায়ে অধিক ফলন নিশ্চিত করতে পারেন।”
সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর আঞ্চলিক কার্যালয়ের কীটপতঙ্গ বিশেষজ্ঞ ড. তাসদিকুর রহমান। তিনি তুলা চাষের প্রধান অন্তরায় বালাই ও কীটপতঙ্গ দমনে কৃষকদের আধুনিক কলাকৌশল হাতে-কলমে শিখিয়ে দেন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জোনাল অফিসের প্রধান তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তা সন দেবাশীষ।
যশোর অঞ্চলের তুলা উন্নয়ন বোর্ডের উপপরিচালক মোজাদ্দীদ আল শামীমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বক্তারা বলেন, তুলা একটি লাভজনক অর্থকরী ফসল। টেক্সটাইল শিল্পে তুলার ব্যাপক চাহিদা থাকায় কৃষকরা সরাসরি লাভবান হতে পারেন। সরকার তুলা চাষিদের বীজ, সার এবং কারিগরি সহায়তা প্রদানে বদ্ধপরিকর।
সমাবেশ শেষে অনেক কৃষক তুলা চাষে তাঁদের আগ্রহ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে দামুড়হুদা ও জীবননগর এলাকায় তুলার আবাদ বাড়লে তা জেলার সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


আপনার মতামত লিখুন :