সারা দেশে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া হাম কেড়ে নিচ্ছে একের পর এক শিশুর প্রাণ। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গে আরও ১০ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে চারজন ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে এবং বাকি ছয়জন হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। আজ রোববার (১২ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো নিয়মিত বিজ্ঞপ্তিতে এই উদ্বেগজনক তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে সন্দেহজনক হামে ১ হাজার ২৬৮ জন এবং নিশ্চিত হামে ১৫০ জন আক্রান্ত হয়েছেন। গত ১৫ মার্চ থেকে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত এই এক মাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সার্বিক চিত্র নিম্নরূপ: মোট সন্দেহজনক আক্রান্ত ১৫ হাজার ৬৫৩ জন। মোট নিশ্চিত হাম রোগী ২ হাজার ৬৩৯ জন। হাসপাতালে ভর্তি ১০ হাজার ২২৫ জন (সুস্থ হয়ে ফিরেছেন ৭ হাজার ৬৫৬ জন)। মোট মৃত্যু (নিশ্চিত হামে): ২৮ জন।
রাজধানীসহ সারা দেশের সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল ও জেনারেল হাসপাতালগুলোতে হাম আক্রান্ত শিশুদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। গত এক মাসে ১০ হাজারেরও বেশি শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অনেক শিশু নিউমোনিয়া ও তীব্র শ্বাসকষ্টের মতো জটিলতা নিয়ে হাসপাতালে আসছে, যা মৃত্যুর প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকার বাইরে থাকা শিশুরাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। সরকার ইতোমধ্যে আক্রান্ত এলাকাগুলোতে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে অভিভাবকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যে, শিশুর শরীরে জ্বর ও লালচে দানা দেখা দিলে কালক্ষেপণ না করে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যেতে হবে এবং বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী উচ্চমাত্রার ভিটামিন `এ` ক্যাপসুল নিশ্চিত করতে হবে।
এক মাসের ব্যবধানে ১৫ হাজারেরও বেশি শিশু আক্রান্ত হওয়া এবং মৃত্যুহার বাড়তে থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, হাম অত্যন্ত সংক্রামক হওয়ায় স্কুলগামী শিশুদের মধ্যে এটি দ্রুত ছড়াচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত জনসমাগম এড়িয়ে চলা এবং আক্রান্ত শিশুদের আইসোলেশনে রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :