মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আজ শুক্রবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যে ঐতিহাসিক সংলাপ হওয়ার কথা ছিল, তা স্থগিত করেছে তেহরান। ইসরায়েলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্ট এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে। মূলত যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার কারণেই ইরান এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বৈঠক নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয় বৃহস্পতিবার রাত থেকেই। পাকিস্তানে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত রেজা আমিরি মোঘাদাম এক্সে (টুইটার) জানিয়েছিলেন যে, ইরানি প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদের পথে রওনা হয়েছেন। কিন্তু রহস্যজনকভাবে কিছুক্ষণ পরেই তিনি সেই পোস্টটি মুছে ফেলেন। এখন পর্যন্ত ইরানি বা মার্কিন কোনো প্রতিনিধিদলের ইসলামাবাদে পৌঁছানোর খবর পাওয়া যায়নি।
জেরুজালেম পোস্ট ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘কান’-এর বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ইরান শর্ত দিয়েছে যে যুদ্ধবিরতিতে অবশ্যই লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। গত ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরদিন ৮ এপ্রিল লেবাননে ইসরায়েলের ভয়াবহ হামলায় ২৫৪ জন নিহত হওয়ার পর তেহরান তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। যদিও লেবাননের সরকারি কর্মকর্তারা ইসরায়েলের সাথে সংলাপে বসতে প্রস্তুত বলে জানা গেছে, কিন্তু ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র লেবাননকে এই চুক্তির বাইরে রাখতে চায়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে টানা ৪০ দিনের বিধ্বংসী যুদ্ধের পর গত ৭ এপ্রিল দুই সপ্তাহের এই সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছিল। আজ শুক্রবার থেকে শুরু হতে যাওয়া সংলাপে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের অংশ নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু লেবাননে ইসরায়েলি হামলা এবং হিজবুল্লাহর পাল্টা রকেট নিক্ষেপের ফলে এই শান্তি প্রক্রিয়া এখন খাদের কিনারে।
সংলাপের আয়োজক এবং প্রধান মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান এখন পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে ইসলামাবাদের কূটনৈতিক পাড়ায় চরম উত্তেজনা ও হতাশা বিরাজ করছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি আজকের এই সংলাপ চূড়ান্তভাবে বাতিল হয়ে যায়, তবে দুই সপ্তাহের এই যুদ্ধবিরতি যেকোনো মুহূর্তে ভেঙে পড়তে পারে এবং মধ্যপ্রাচ্য আরও ভয়াবহ যুদ্ধের কবলে পড়তে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :