ঢাকা মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩
Daily Global News

পাবলিক পরীক্ষায় বড় বদল: কমছে ফেল করা শিক্ষার্থীদের সুযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: এপ্রিল ১২, ২০২৬, ০৯:০০ পিএম

পাবলিক পরীক্ষায় বড় বদল: কমছে ফেল করা শিক্ষার্থীদের সুযোগ

এসএসসি ও এইচএসসির মতো পাবলিক পরীক্ষাগুলোর বিদ্যমান পদ্ধতিতে বড় ধরনের সংস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, কোনো বিষয়ে অনুত্তীর্ণ হলে এখন থেকে সর্বোচ্চ দুইবারের বেশি পরীক্ষা দেওয়া যাবে না। পাশাপাশি খাতা পুনঃনিরীক্ষণের বদলে পুনর্মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু এবং ডিজিটাল অপরাধ দমনে ১৯৮০ সালের পাবলিক এক্সামিনেশনস অ্যাক্ট যুগোপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শনিবার (১১ এপ্রিল) রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী এসব পরিবর্তনের কথা জানান।

বর্তমানে একজন শিক্ষার্থী কোনো বিষয়ে অকৃতকার্য হলে চারবার পর্যন্ত পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পায়। মন্ত্রী এই নিয়মের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, “একজন শিক্ষার্থী একবার, দুবার, তিনবার বা চারবার ফেল করবে আর আমরা তাদের রেজিস্ট্রেশন দিয়ে লিগ্যাসি ক্যারি করব এটা আমাদের দায়িত্ব হতে পারে না। এখন থেকে দুইবারের বেশি সুযোগ দেওয়া হবে না।”

বর্তমানে শুধু খাতার নম্বর গণনা বা বৃত্ত ভরাট যাচাই করার সুযোগ থাকলেও সরকার এখন পুরো খাতা নতুন করে মূল্যায়নের কথা ভাবছে। পুনর্মূল্যায়ন পদ্ধতিতে নম্বর বাড়ার পাশাপাশি কমারও ঝুঁকি থাকবে। তবে এই উদ্যোগের তীব্র বিরোধিতা করেছেন শিক্ষক নেতারা।

অধ্যক্ষ পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক মো. মাজহারুল হান্নান বলেন, “পুনর্মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু করলে দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হবে। খাতা দেখার সময় পরীক্ষকের পরিচয় গোপন থাকে, তাই পক্ষপাতিত্বের সুযোগ নেই। কিন্তু পুনর্মূল্যায়ন হলে টাকা-পয়সার ছড়াছড়ি হতে পারে।”

১৯৮০ সালের বিদ্যমান আইনে ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে প্রশ্ন ফাঁস বা জালিয়াতির বিরুদ্ধে কঠোর সাজার বিধান নেই। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আইন কর্মকর্তা ফাহিম ফয়সাল জানান, অনলাইন প্রশ্ন ফাঁস, ডিজিটাল জালিয়াতি এবং কোচিং সেন্টারের মতো সংঘবদ্ধ গোষ্ঠীর অপরাধ রুখতে আইনটি সংশোধনের কাজ চলছে। মন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে কারা জড়িত আমরা কি জানি না? আইন এবার তাদের জন্য স্টিপুলেট করবে।”

সারা দেশের সব শিক্ষা বোর্ডে একই প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়ার বর্তমান ধারাতেও পরিবর্তন আনার কথা ভাবছে মন্ত্রণালয়। এছাড়া প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে প্রযুক্তিগত আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা খসড়া পর্যায়ে রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। সূত্র: বিবিসি

ডিজিএন/এনএস

banner
Link copied!