ঢাকা সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬, ১ চৈত্র ১৪৩২
Daily Global News

চুয়াডাঙ্গায় ডিজেল সংকট: মাঠ শুকিয়ে চৌচির, কৃষকের চোখে জল

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: মার্চ ১৫, ২০২৬, ০২:৪৬ পিএম

চুয়াডাঙ্গায় ডিজেল সংকট: মাঠ শুকিয়ে চৌচির, কৃষকের চোখে জল

দেশের অন্যতম ‘শস্য ভাণ্ডার’ হিসেবে পরিচিত চুয়াডাঙ্গায় জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। জেলার অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনে এখন ‘ডিজেল নেই’ লেখা ব্যানার ঝুলছে। বোরো মৌসুমের এই ভরা সময়ে সেচ দিতে না পেরে ফসলের মাঠ ফেটে চৌচির হওয়ার উপক্রম হয়েছে, যা এই অঞ্চলের কৃষি উৎপাদনে বড় ধরনের বিপর্যয়ের শঙ্কা তৈরি করেছে।

চুয়াডাঙ্গার দিগন্তজোড়া মাঠে এখন ধানের সবুজ সমারোহ। বীজতলা থেকে শুরু করে হাড়ভাঙা খাটুনির পর এখন ধান ঘরে তোলার অপেক্ষায় কৃষকরা। কিন্তু সার, বীজ ও নিড়ানির পর এখন বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে সেচ। পানির অভাবে ধান গাছ শুকিয়ে যাচ্ছে। দুই লিটার ডিজেলের জন্য কৃষকরা প্লাস্টিকের কন্টেইনার হাতে এক পাম্প থেকে অন্য পাম্পে ছুটছেন, কিন্তু কোথাও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত জ্বালানি।

ক্ষুব্ধ এক কৃষক বলেন, “প্রতিদিন দেড়-দুই লিটার তেল লাগে। পাম্পে গেলে বলে তেল নেই। সেচ দিতে না পারলে জমি ফেটে যাবে, ধান হবে না। আমরা তো পথে বসে যাব।”

এদিকে ফিলিং স্টেশনের মালিকরা তেলের সংকটের চেয়ে পরিবহণ খরচ ও রেশনিং পদ্ধতিকে বেশি দায়ী করছেন। তাদের দাবি, ডিপো থেকে চাহিদার তুলনায় অনেক কম তেল বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে।

পাম্প মালিকরা জানান, একটি গাড়ির তেল ধারণ ক্ষমতা ১৩ হাজার ৫০০ লিটার হলেও তাদের দেওয়া হচ্ছে মাত্র ৮ হাজার লিটার। অথচ পুরো গাড়ির ভাড়া ও অর্ধেক তেলের গাড়ির ভাড়া একই। এতে লোকসান গুণতে হচ্ছে মালিকদের।

চুয়াডাঙ্গার পাম্পগুলোতে প্রতিদিন ডিজেলে চাহিদা ৪ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার লিটার। কিন্তু বরাদ্দ সংকটের কারণে মাত্র একদিনেই সব তেল শেষ হয়ে যাচ্ছে।

সরকার দেশজুড়ে রেশনিং পদ্ধতি তুলে দেওয়ার ঘোষণা দিলেও স্থানীয় পর্যায়ে পাম্প মালিকদের ধর্মঘট বা উত্তোলন বন্ধ রাখার কারণে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না। পাম্প মালিকদের দাবি, তাদের পুরো গাড়ি তেল ভর্তি করে দিতে হবে, নতুবা এই সংকট কাটবে না।

কৃষি সমৃদ্ধ এই জনপদে দ্রুত ডিজেল সরবরাহ স্বাভাবিক করা না হলে ধানের ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। কৃষকের মুখের হাসি ধরে রাখতে এখন দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপের অপেক্ষা করছে চুয়াডাঙ্গাবাসী।

ডিজিএন/এনএস

banner
Link copied!