ঢাকা মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩
Daily Global News

ভেস্তে গেল ইসলামাবাদ শান্তি আলোচনা: কোনো সমঝোতা ছাড়াই ফিরে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতি ডেস্ক

প্রকাশিত: এপ্রিল ১২, ২০২৬, ১২:৫৮ পিএম

ভেস্তে গেল ইসলামাবাদ শান্তি আলোচনা: কোনো সমঝোতা ছাড়াই ফিরে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের প্রত্যাশাকে হতাশায় ডুবিয়ে কোনো সমঝোতা বা চুক্তি ছাড়াই শেষ হলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনা। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে টানা ২১ ঘণ্টা আলোচনার পর মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া শর্ত বা ‘রেড লাইন’ মানতে রাজি না হওয়ায় আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে। এর ফলে গত ৭ এপ্রিল ঘোষিত দুই সপ্তাহের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি এখন খাদের কিনারে দাঁড়িয়ে।

আলোচনা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে জেডি ভ্যান্স বলেন, “আমরা নমনীয় মনোভাব এবং সদিচ্ছা নিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা এমন কোনো অবস্থায় পৌঁছাতে পারিনি যেখানে ইরানিরা আমাদের শর্তগুলো মেনে নেবে। আমি মনে করি, এই ব্যর্থতা যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ইরানের জন্যই বেশি ক্ষতিকর।” সংবাদ সম্মেলন শেষ করেই জেডি ভ্যান্স এবং জ্যারেড কুশনারসহ মার্কিন প্রতিনিধিদল ওয়াশিংটনের উদ্দেশ্যে ইসলামাবাদ ত্যাগ করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা স্থায়ীভাবে বন্ধ করা। জেডি ভ্যান্স বলেন, “আমরা ইরানের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট এবং দৃঢ় অঙ্গীকার চেয়েছিলাম যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। কিন্তু সেই অঙ্গীকার আমরা দেখতে পাইনি।” এছাড়া ইরানের জব্দ করা সম্পদ এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে, তবে কোনো পক্ষই নমনীয় হয়নি।

অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এক বিবৃতিতে ওয়াশিংটনকে ‘অতিরিক্ত দাবি ও বেআইনি অনুরোধ’ করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তেহরানের মতে, আলোচনার সাফল্য নির্ভর করে প্রতিপক্ষের আন্তরিকতার ওপর। ইরান তাদের ‘বৈধ অধিকার ও স্বার্থ’ রক্ষায় কোনো ছাড় দেবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে।

ইসলামাবাদে যখন শান্তি আলোচনা চলছিল, ঠিক তখনই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক যুদ্ধংদেহী বিবৃতি দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের অভিযান ‘এখনও শেষ হয়নি’। নেতানিয়াহু বলেন, “আমরা এখনও তাদের বিরুদ্ধে লড়ছি এবং আরও অনেক কিছু করার বাকি আছে।” তবে তিনি লেবাননের সঙ্গে পৃথক শান্তি আলোচনার অনুমোদন দিয়েছেন বলে জানান।

আলোচনা ব্যর্থ হলেও মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন জেডি ভ্যান্স। তিনি প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং ফিল্ড মার্শাল মুনিরের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “এই ব্যর্থতার জন্য পাকিস্তানিরা দায়ী নয়, তারা অসাধারণভাবে দায়িত্ব পালন করেছে।”

ডিজিএন/এনএস

banner
Link copied!