নেত্রকোণার মদন উপজেলায় এক ১২ বছর বয়সী মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বা করার ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর (৩৫) অবশেষে আইনের জালে ধরা পড়েছেন। বুধবার ভোর সোয়া ৪টার দিকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলা থেকে র্যাব-১৪-এর একটি আভিযানিক দল তাকে গ্রেপ্তার করে।
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, র্যাব আসামিকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করার পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাকে আদালতে পাঠানো হবে।
অভিযুক্ত আমান উল্লাহ সাগর উপজেলার পাঁচহার গ্রামে ২০২২ সালে ‘হযরত ফাতেমা তুজ্জহুরা মহিলা কওমি মাদরাসা’ প্রতিষ্ঠা করেন, যেখানে তার স্ত্রীও প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে শিক্ষক সাগর ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করেন এবং প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে বিষয়টি গোপন রাখতে বাধ্য করেন। নির্যাতিত শিশুটি তার নানির কাছে থেকে ওই মাদরাসায় পড়াশোনা করত, কারণ তার মা জীবিকার তাগিদে সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করেন।
ধর্ষণের ঘটনার পর শিশুটি গত পাঁচ মাস ধরে মাদরাসায় যাওয়া বন্ধ করে দেয়। সম্প্রতি তার মা বাড়িতে এসে মেয়ের শারীরিক পরিবর্তন দেখে সন্দেহ করেন এবং জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে শিশুটি সব প্রকাশ করে দেয়। গত শুক্রবার স্থানীয় একটি হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর জানা যায়, ১২ বছরের এই শিশুটি সাত মাসের (মতান্তরে ৫ মাস) অন্তঃসত্ত্বা। চিকিৎসক বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করলে তা জনমনে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করে।
ভুক্তভোগীর মা গত ৩০ এপ্রিল মদন থানায় আমান উল্লাহ সাগর ও তার ভাই মামুন মিয়াকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলার পর থেকেই শিক্ষক সাগর পলাতক ছিলেন এবং মাদরাসাটিও বন্ধ হয়ে যায়। অভিযোগ রয়েছে যে, প্রভাবশালী হওয়ায় অভিযুক্ত পক্ষ ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়েছিল।
র্যাব-১৪-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বুধবার দুপুরে ময়মনসিংহে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই চাঞ্চল্যকর গ্রেপ্তারের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হবে।
মদনের এই ঘটনা আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল আমাদের সামাজিক ও ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিশুদের নিরাপত্তার ভয়াবহ সংকটের চিত্র। এখন সবার একটাই প্রত্যাশা দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।


আপনার মতামত লিখুন :