ঢাকা সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
Daily Global News

যে আঁইশ একসময় ছিল বর্জ্য, এখন সেটাই বৈদেশিক মুদ্রার উৎস

আকিমুল ইসলাম, চুয়াডাঙ্গা থেকে

প্রকাশিত: মে ১৫, ২০২৬, ০২:৩৬ পিএম

যে আঁইশ একসময় ছিল বর্জ্য, এখন সেটাই বৈদেশিক মুদ্রার উৎস

একসময় মাছের আঁইশকে শুধু বর্জ্য হিসেবেই দেখা হতো। বাজারে মাছ কাটার পর এই আঁইশ ফেলে দেওয়া ছিল স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু সময় বদলেছে। এখন সেই ফেলনা আঁইশই হয়ে উঠেছে মূল্যবান রপ্তানি পণ্য। চুয়াডাঙ্গায় মাছের আঁইশ সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাত করে বিদেশে রপ্তানির মাধ্যমে আয় হচ্ছে বৈদেশিক মুদ্রা, পাশাপাশি বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে বহু পরিবারের জন্য।

জেলা মৎস্য অফিস ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সূত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা সদরসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় এখন মাছের আঁইশ সংগ্রহ ও বিক্রির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও মাছ কাটার শ্রমিক। স্থানীয় বাজার থেকে সংগ্রহ করা আঁইশ প্রক্রিয়াজাত হয়ে রপ্তানি হচ্ছে জাপান, চীন, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশে।

চুয়াডাঙ্গা শহরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মাছ বিক্রেতারা এখন আর আঁইশ ফেলে দেন না। সেগুলো আলাদা করে জমিয়ে রাখা হয়। পরে পরিষ্কার করে রোদে শুকিয়ে বিক্রি করা হয় পাইকারদের কাছে। প্রতি মণ আঁইশ দুই থেকে চার হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাছের আঁইশ থেকে জেলেটিন উৎপাদন করা যায়, যা ওষুধ শিল্প, প্রসাধনী, ক্যাপসুলের আবরণ, লিপস্টিকসহ নানা পণ্যে ব্যবহার করা হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে এর চাহিদাও বাড়ছে দিন দিন।

চুয়াডাঙ্গা বড় বাজারের মাছ ব্যবসায়ী মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “আগে এগুলো ফেলে দিতাম। এখন প্রতিদিন ১৫-২০ কেজি আঁইশ হয়। এগুলো বিক্রি করে মাসে তিন থেকে চার হাজার টাকা বাড়তি আয় হচ্ছে।”

আরেক ব্যবসায়ী শরীফ উদ্দীন জানান, মাছ কাটার মূল আয়ের পাশাপাশি আঁইশ বিক্রি করেও ভালো টাকা পাওয়া যাচ্ছে। বিদেশে রপ্তানি হওয়ায় এর বাজারমূল্যও বেড়েছে।

দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা বাসস্ট্যান্ড বাজারের মাছ ব্যবসায়ী শুকুর আলী বলেন, “ওয়েভ ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে আমরা প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতা পেয়েছি। এখন আঁইশ ফেলে না দিয়ে সংগ্রহ করে বিক্রি করি।”

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ওয়েভ ফাউন্ডেশন–এর মৎস্য কর্মকর্তা সাঈদ-উর-রহমান বলেন, পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর সহায়তায় মাছের আঁইশ সংগ্রহ ও বিপণনে স্থানীয়দের উৎসাহিত করা হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত হচ্ছে, অন্যদিকে নতুন কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

ফরহাদুর রেজা বলেন, “একসময় যেটি ছিল আবর্জনা, এখন সেটিই সম্পদে পরিণত হয়েছে। মাছের আঁইশ থেকে জেলেটিন তৈরি হয়, যা বিভিন্ন ওষুধ ও প্রসাধনী শিল্পে ব্যবহৃত হয়। দেশে এখনো এ ধরনের কারখানা না থাকায় কাঁচামাল বিদেশে রপ্তানি করা হচ্ছে। এই খাতে ভবিষ্যতে বড় সম্ভাবনা রয়েছে।”

ডিজিএন/এনএস

banner
Link copied!