যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার পরোক্ষ শান্তি আলোচনায় ‘ইতিবাচক অগ্রগতি’র খবরের প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া ও তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার ইঙ্গিতে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে বড় পতন হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রায় ১ শতাংশের বেশি কমে গেছে। এই নিয়ে টানা তিন কার্যদিবস ধরে তেলের বাজারে নিম্নমুখী প্রবণতা বজায় রইল।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দোহায় অনুষ্ঠিত এই পরোক্ষ বৈঠকই তেলের বাজারের চাঙ্গাভাব কমিয়ে দিয়েছে। কারণ, বিশ্বের মোট খনিজ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশই পরিবাহিত হয় এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে।
আন্তর্জাতিক বাজারে আজ বাংলাদেশের স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৫৬ মিনিট পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববাজারের বেঞ্চমার্ক ‘ব্রেন্ট ক্রুড’ ফিউচার্সের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭৭ সেন্ট বা ১.১ শতাংশ কমে ৭০.৮০ মার্কিন ডলারে নেমে এসেছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজারের মানদণ্ড ‘ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট’ (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৪ সেন্ট বা ১.২ শতাংশ কমে বিক্রি হচ্ছে ৬৭.৭৪ ডলারে। এর আগের কার্যদিবসেও এই দুই ধরনের তেলের দাম ১ শতাংশের বেশি কমে গত চার মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে গিয়ে ঠেকেছিল।
চীনভিত্তিক বাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ‘হাইতং ফিউচার্স’ এক পর্যালোচনায় জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত হওয়া এবং অপরিশোধিত তেলের প্রবাহ নিরবচ্ছিন্ন থাকার আভাসে বিশ্ববাজারে তেলের ঘাটতি নিয়ে আমদানিকারকদের দীর্ঘদিনের উদ্বেগ দূর হচ্ছে। বাজারে নিজেদের অংশীদারিত্ব ধরে রাখতে এখন উৎপাদনকারীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা শুরু হওয়ায় তেলের দাম ক্রমাগত কমছে।
এরই মধ্যে আগামী রোববার তেল উৎপাদন ও রপ্তানিকারক দেশগুলোর শক্তিশালী জোট ‘ওপেক’-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো আভাস দিয়েছে, বাজারে সরবরাহ বাড়াতে ওপেকের সদস্যরা আগামী আগস্ট মাস থেকে তেল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা আরও বাড়িয়ে দেওয়ার বিষয়ে একমত হতে পারেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান সমঝোতাকে আমলে নিয়ে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বহুজাতিক বিনিয়োগ ব্যাংক ‘ইউবিএস’ ব্রেন্ট ক্রুডের দামের ভবিষ্যৎ পূর্বাভাস এক ধাক্কায় অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে। ব্যাংকটি চলতি বছরের সেপ্টেম্বর প্রান্তিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) জন্য ব্রেন্ট ক্রুডের গড় দামের পূর্বাভাস ব্যারেলপ্রতি ২৫ ডলার এবং ডিসেম্বর প্রান্তিকের জন্য ১০ ডলার কমিয়েছে।
নতুন পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ভাগে ব্রেন্ট ক্রুডের গড় দাম ব্যারেলপ্রতি ৮০ ডলার এবং ২০২৭ সাল নাগাদ তা গড়ে ৭৫ ডলারে নেমে আসতে পারে।
তবে ইউবিএস তাদের নোটে একটি সতর্কবার্তাও জুড়ে দিয়েছে। ব্যাংকটি বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনই সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হয়ে গেছে ভাবাটা ভুল হবে। পারস্য উপসাগরে যে পরিমাণ তেলের ট্যাংকার প্রবেশ করছে, সেই তুলনায় বের হওয়া ট্যাংকারের সংখ্যা এখনো কম। ফলে তেলের বাজারে আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধির ঝুঁকি বা ‘সাপ্লাই শক’ এখনও পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
সূত্র: রয়টার্স


আপনার মতামত লিখুন :