ঢাকা শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩
Daily Global News

যেকোনো মুহূর্তে তিস্তায় পাহাড়ি ঢল: উত্তরবঙ্গের ৫ জেলায় বন্যার শঙ্কা!

লালমনিরহাট প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জুন ২৬, ২০২৬, ০৫:৪১ পিএম

যেকোনো মুহূর্তে তিস্তায় পাহাড়ি ঢল: উত্তরবঙ্গের ৫ জেলায় বন্যার শঙ্কা!

উজানে ভারতের সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাতের ফলে যেকোনো মুহূর্তে দেশের উত্তরাঞ্চলের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমারসহ প্রধান প্রধান নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে।

এতে লালমনিরহাট, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, রংপুর ও গাইবান্ধা জেলার তিস্তা অববাহিকার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে মাঝারি থেকে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টির তীব্র আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজ এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান (রেড অ্যালার্ট) নিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

পাউবোর বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র এক বিশেষ জরুরি সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, ২৫ জুন থেকে শুরু করে আগামী ২ জুলাইয়ের মধ্যে উত্তরবঙ্গের এই ৫টি জেলা যেকোনো সময় ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়তে পারে।

পাউবোর সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের (আইএমডি) তথ্য অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিনে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, সিকিম, আসাম, মেঘালয় ও ত্রিপুরা রাজ্যে অস্বাভাবিক এবং অত্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উজানের এই বিপুল পরিমাণ বৃষ্টির পানি তীব্র বেগে সীমান্ত নদীগুলো হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করবে। ফলে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের নদীগুলোর পানি অস্বাভাবিক দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পেয়ে দুই কূল ছাপিয়ে লোকালয়ে প্রবেশ করবে।

এই পূর্বাভাসের ফলে তিস্তা ও ধরলা নদীর তীরবর্তী এবং চরাঞ্চলের নিম্নাঞ্চলগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়েছে। বন্যা শুরু হলে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা, পাটগ্রাম, কালীগঞ্জ, আদিতমারী ও সদর উপজেলার নিম্নাঞ্চল সবার আগে প্লাবিত হবে এবং হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাঠপর্যায়ের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সার্বক্ষণিক সতর্ক অবস্থানে থাকার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সাথে নদী তীরবর্তী ও চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের যেকোনো মুহূর্তে নিরাপদ স্থানে বা আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যারেজের জলকপাটগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক মুহ: রাশেদুল হক প্রধান জানান, ইতিমধ্যে সম্ভাব্য উপদ্রুত জেলা ও উপজেলাগুলোর স্থানীয় প্রশাসনকে জরুরি ত্রাণসামগ্রী, শুকনা খাবার, আশ্রয়কেন্দ্র ও উদ্ধারকারী নৌকা প্রস্তুত রাখার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রতি মুহূর্তের নদীর পানিপ্রবাহ পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রতি ঘণ্টার আপডেট কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও সাধারণ মানুষকে দ্রুত অবহিত করা হচ্ছে।

ডিজিএন/এনএস

banner
Link copied!