পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দ ও সৌহার্দ্য ভাগ করে নিতে রাজধানীর আমিনবাজারের অন্যতম জনপ্রিয় ফিটনেস কেন্দ্র ‘ওয়ান জিম’-এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক জমকালো ঈদ পুনর্মিলনী ও প্রীতি ফুটবল ম্যাচ।
গতকাল শুক্রবার (১২ জুন) ঢাকার মিরপুর ইনডোর স্টেডিয়ামে উৎসবমুখর ও বৈচিত্র্যময় কর্মসূচির মধ্য দিয়ে এই নান্দনিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। জিমের নিয়মিত সদস্য, প্রশিক্ষক ও আমন্ত্রিত অতিথিদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণ রূপ নিয়েছিল এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায়।
যান্ত্রিক জীবনের ব্যস্ততা ভুলে শরীরচর্চা ও ফিটনেসপ্রেমী মানুষগুলো মেতে উঠেছিলেন ঈদের অনাবিল আনন্দ আর পারস্পরিক কুশল বিনিময়ে। আধুনিক নাগরিক জীবনে শরীরচর্চার পাশাপাশি এই ধরনের সামাজিক মেলবন্ধন কতটা জরুরি, ওয়ান জিমের এই অনন্য আয়োজন যেন তারই এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করল।
অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সূচনায় জিমের সদস্যরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি ও ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এরপর এক ঘরোয়া আড্ডায় তারা দৈনন্দিন কর্মব্যস্ততার মাঝে নিজেদের স্বাস্থ্য সচেতনতা ও ফিটনেস ধরে রাখার নানা ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও পরামর্শ বিনিময় করেন।
তবে অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ও উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল জিমের অভ্যন্তরীণ সদস্যদের নিয়ে আয়োজিত এক প্রীতি ফুটবল ম্যাচ। দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে জিমের সদস্যরা যখন সবুজ মাঠে খেলতে নামেন, তখন পুরো ইনডোর স্টেডিয়ামে এক অভূতপূর্ব উচ্ছ্বাস ও উদ্দীপনা ছড়িয়ে পড়ে।

ফিটনেস ট্রেইনার ও সদস্যদের ফুটবল স্কিল এবং গোল করার দারুণ সব প্রচেষ্টা গ্যালারিতে থাকা দর্শকদের টানটান উত্তেজনা ও করতালিতে মুখরিত করে তোলে। তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও হাসিখুশিতে ভরা পরিবেশের মধ্য দিয়ে এই প্রীতি ম্যাচটি সম্পন্ন হয়।
ফুটবল ম্যাচ শেষে এক সংক্ষিপ্ত ও মনোজ্ঞ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিজয়ী এবং রানার্স-আপ দলের খেলোয়াড়দের মাঝে বিশেষ পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
এ সময় ওয়ান জিমের কর্নধার ও আয়োজক হোসাইন মেহেদী অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, ঈদের মতো একটি বড় ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসবের আনন্দঘন উপলক্ষে এমন ক্রীড়াভিত্তিক আয়োজন জিমের সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও আন্তরিকতার বন্ধনকে আরও দৃঢ় করবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ওয়ান জিম শুধু শরীরচর্চার একটি কেন্দ্র নয়, বরং এটি একটি সুস্থ জীবনধারার সামাজিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে চায়, যেখানে সদস্যরা শরীরচর্চার পাশাপাশি মানসিকভাবেও চাঙ্গা থাকার রসদ পাবেন।
পুরস্কার বিতরণী পর্ব শেষে জিমের আগামী দিনের পরিকল্পনা নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা ও হালকা ঐতিহ্যবাহী আপ্যায়নের মধ্য দিয়ে এই চমৎকার দিনটির সমাপ্তি ঘটে।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে সুস্থ বিনোদনের এই ধারাকে টিকিয়ে রাখতে আগামীতেও এমন আয়োজন নিয়মিত করার জোর আহ্বান জানান।


আপনার মতামত লিখুন :