ঢাকা শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩
Daily Global News

শাহজালাল মাজারে প্রথমবার প্রকাশ্যে টাকা গণনা

সিলেট প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জুন ২২, ২০২৬, ০৯:৪২ পিএম

শাহজালাল মাজারে প্রথমবার প্রকাশ্যে টাকা গণনা

সিলেটের ঐতিহাসিকভাবে বিখ্যাত হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারে এবার এক নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে। মাজারের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সম্পূর্ণ প্রকাশ্যে সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে দান বাক্সের টাকা ও স্বর্ণ গণনা করা হয়েছে। আজ সোমবার (২২ জুন) দুপুর আড়াইটা থেকে বিকেল পর্যন্ত মাজারের একটি দানবাক্স ও তিনটি দানের ডেগ খুলে এই গণনা প্রক্রিয়া চালানো হয়।

মাত্র চার দিনের ব্যবধানে সিলগালা করা ওই দানবাক্স ও ডেগগুলো থেকে নগদ ১৭ লাখ ৬৪ হাজার ৫৪৯ টাকা পাওয়া গেছে। এ ছাড়া মাজারে দানের জন্য রাখা একটি বড় পাতিল থেকে ৭ গ্রাম ওজনের খাঁটি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে।

হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.) মাজারে প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা দান জমা পড়লেও, সেখানে ঠিক কী পরিমাণ অর্থ আসে এবং সেই অর্থ কোথায় বা কীভাবে ব্যয় হয়, সে বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে সুনির্দিষ্ট ও স্বচ্ছ কোনো তথ্য ছিল না। সম্প্রতি সিলেট জেলা প্রশাসনের একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই হিসাবহীন অর্থ ব্যবস্থাপনার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে উঠে আসে।

এরই ধারাবাহিকতায় গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সন্ধ্যা ছয়টায় জেলা প্রশাসনের একটি বিশেষ টিম মাজারে গিয়ে তিনটি দানের ডেগ সিলগালা করে দেয়। একই সাথে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাজার প্রাঙ্গণে একটি নতুন সরকারি দানবাক্সও স্থাপন করা হয়।

মাজারের অর্থ ব্যবস্থার ওপর প্রশাসনের এমন সরাসরি নিয়ন্ত্রণ আরোপের পর মাজারের বর্তমান খাদেম পরিবার এবং স্থানীয় একটি মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেই মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে সিলেট জেলা প্রশাসককে (ডিসি) আকস্মিক বদলির সরকারি নির্দেশ আসে, যা নিয়ে সিলেটে ব্যাপক গুঞ্জন ও তোলপাড় শুরু হয়।

বদলির আদেশ পাওয়ার পর আজ সোমবার বিদায়ী জেলা প্রশাসকের সরাসরি উপস্থিতিতেই মাজারের সেই সিলগালা করা ডেগ এবং বাক্সগুলো পুনরায় খুলে দেওয়া হয়। গত চারদিন ধরে এই সিলগালা করা পাত্রগুলোতে সাধারণ মানুষের দান করা টাকা ও গহনা জমা ছিল। স্থানীয় বাসিন্দা ও মাজার সংশ্লিষ্টদের সামনেই এই বিপুল পরিমাণ অর্থ প্রকাশ্যে টেবিলে ঢেলে গণনা করা হয়।

মাজার কমিটি ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রকাশ্যে গণনাকৃত এই বিশাল অঙ্কের অর্থ পরবর্তীতে জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ ওয়াকফ কমিটির যৌথ নামের একটি নির্দিষ্ট ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতে এই অর্থের প্রতিটি টাকা মাজারের সার্বিক ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা এবং মাজার সংলগ্ন এলাকার উন্নয়নমূলক কাজেই স্বচ্ছতার সাথে ব্যয় করা হবে।

ডিজিএন/এনএস

banner
Link copied!