পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির পৃথক দুটি স্থানে স্বশস্ত্র গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে পাহাড়ের আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ-প্রসিত গ্রুপ) দুই সদস্য নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
আজ বুধবার (২৪ জুন) দীঘিনালা ও রামগড় উপজেলায় এই দুটি ঘটনা ঘটে। খাগড়াছড়ি জেলা পুলিশ প্রশাসন গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত দুই ইউপিডিএফ সদস্য হলেন, সুজন চাকমা ও ববিন ত্রিপুরা। এ সময় রামগড় থেকে স্বশস্ত্র অবস্থায় আরও এক ইউপিডিএফ সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ।
স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী ও পুলিশ জানায়, খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার বাবুছড়া ইউনিয়নের মুড়োপাড়া এলাকায় আজ একদল স্বশস্ত্র দুর্বৃত্তের অতর্কিত হামলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে সুজন চাকমা নামের এক ইউপিডিএফ কর্মী ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়েছে ইউপিডিএফ (প্রসিত গ্রুপ)। বিবৃতিতে তারা এই ঘটনার জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতিকে (জেএসএস) সরাসরি দায়ী করেছে। তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে জেএসএস-এর কোনো শীর্ষ নেতার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে আজ সকালে খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলায় অপর একটি স্বশস্ত্র পাহাড়ি গ্রুপের সাথে ইউপিডিএফের তুমুল গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় একজন নিহত ও একজন আহত হয়েছেন।
রামগড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজির আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সকালে উপজেলার দুর্গম এলাকায় আকস্মিক গোলাগুলির শব্দ পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়। সেখানে গিয়ে ববিন ত্রিপুরা নামের একজনকে গুলিবিদ্ধ ও রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়, পরবর্তীতে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে নিহত ববিন ত্রিপুরা ইউপিডিএফের সক্রিয় সদস্য ছিলেন।
ওসি আরও জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে স্বশস্ত্র সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় ধাওয়া করে ভারী আগ্নেয়াস্ত্র ‘একে-৪৭’ রাইফেলসহ হাতেনাতে একজনকে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃত ব্যক্তিও ইউপিডিএফের সদস্য বলে স্বীকার করেছেন। বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং মামলার প্রস্তুতি চলছে।


আপনার মতামত লিখুন :