মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার চ্যালেঞ্জ এবং বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের (জানুয়ারি-জুন) মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর এই নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন। এটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে তাঁর ঘোষিত তৃতীয় মুদ্রানীতি।
নতুন মুদ্রানীতিতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান ধরে রাখতে প্রধান নীতি সুদহার (রেপো রেট) ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। তবে ব্যাংকগুলোকে বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (এসডিএফ) ৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে।
গভর্নর জানান, “আমরা চাই ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকে টাকা ফেলে না রেখে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ করুক। এ কারণেই এসডিএফ কমানো হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এটি আরও কমানো হতে পারে।”
নির্বাচন পরবর্তী সময়ে দেশে বিনিয়োগ বাড়বে এমন প্রত্যাশা থেকে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানো হয়েছে। বর্তমান প্রবৃদ্ধি: ৬ দশমিক ১ শতাংশ (ডিসেম্বর পর্যন্ত)। নতুন লক্ষ্যমাত্রা: ৮ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৮ দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে।
বর্তমানে দেশে গড় মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশে থাকলেও চলতি অর্থবছর শেষে তা ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য ঠিক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। অন্যদিকে, সরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২১ দশমিক ৬ শতাংশ।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, দেশের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় ভারসাম্য রক্ষা, মুদ্রা সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ এবং বৈদেশিক সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতেই এই পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। বাজার থেকে অতিরিক্ত তারল্য তুলে নিয়ে মূল্যস্ফীতি কমানোর পাশাপাশি উৎপাদনশীল খাতে অর্থের জোগান বাড়ানোই এই মুদ্রানীতির প্রধান লক্ষ্য।


আপনার মতামত লিখুন :