দীর্ঘদিন পর দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে বড় ধরনের লম্ফ দেখা দিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের মোট (গ্রস) রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই অর্থনীতির এই শক্তিশালী চিত্র বিনিয়োগকারী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জানান, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী বর্তমানে নিট রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৯ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলার (২৯,৮৫৯.৩৭ মিলিয়ন)।
মাত্র এক সপ্তাহ আগেই (৯ ফেব্রুয়ারি) গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩৪ দশমিক ০৬ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ অনুযায়ী ছিল ২৯ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ মাত্র কয়েক দিনেই রিজার্ভে প্রায় ০.৪৭ বিলিয়ন ডলারের প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মতে, এই উন্নতির পেছনে মূল চাবিকাঠি হলো রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ের উচ্চপ্রবাহ। ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম ১৬ দিনেই দেশে প্রায় ১.৮১ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২১.২ শতাংশ বেশি।
বাজারে ডলারের সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় দর যেন হুট করে পড়ে না যায়, সেজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে নিলামের মাধ্যমে ডলার কিনছে। এতে একদিকে ডলারের দাম স্থিতিশীল থাকছে, অন্যদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভের ভান্ডার সমৃদ্ধ হচ্ছে।
রিজার্ভ বাড়লেও নবগঠিত বিএনপি সরকারকে প্রায় ২৩ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা (অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক মিলিয়ে) নিয়ে যাত্রা শুরু করতে হচ্ছে। তবে বর্তমানের এই ২৯.৮৫ বিলিয়ন ডলারের নিট রিজার্ভ দিয়ে অন্তত ৫ থেকে ৬ মাসের আমদানিব্যয় মেটানো সম্ভব, যা একটি দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য ইতিবাচক।


আপনার মতামত লিখুন :